টুনটুনি

Comments · 644 Views

টুনটুনি Sylviidae পরিবারের অন্তর্গত Orthotomus গণের এক ধরনের ছোট পাখি। এরা বাংলাদেশের অত্যন্ত সুপরিচিত। ইংরেজিতে একে tailorbird অর্থাৎ দর্জি পাখি বলে। গাছের পাতা ঠোঙার মতো মুড়িয়ে আঁশ দিয়ে ঠোঁটের সাহায্যে সেলাই করে এরা বাসা বানায়। এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম— Orthotommus sutoriu.

পৃথিবীতে ১৫ প্রজাতির টুনটুনি রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে আছে কালাগলা, পাহাড়ি, পাতি—এই তিন প্রজাতির টুনটুনি। এদের আকার প্রায় ১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। টুনটুনির বুক ও পেট সাদাটে।

ডানার উপরিভাগ ও মাথা জলপাই-লালচে। চোখের মণি লাল, অনেকটা পাকা মরিচের মতো। বুক সাদা পালকে ঢাকা। লেজ খাড়া, এতে কালচে দাগ আছে। ঋতুভেদে পিঠ ও ডানার রং কিছুটা বদলায়।

এরা চালাক ও চঞ্চল পাখি। এক স্থানে দীর্ঘক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকে না। সারাক্ষণই নড়তে থাকে। বিপদ দেখলে বোকার মতো চেঁচামেচি করে। ফলে সহজেই শত্রুর নজরে পড়ে যায়। এরা সাধারণত ৬-১০ সেমি উচ্চতায় বাসা বাঁধে। ছোট গুল্মজাতীয় গাছ অথবা ঝোপঝাড় এদের প্রধান পছন্দ। শিম, লাউ, কাঠবাদাম, সূর্যমুখী, ডুমুর, লেবু গাছে এরা বেশি বাসা বাঁধে। বাসা বাঁধার কাজে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় পাখি সমানভাবে পারদর্শী।

টুনটুনি বিভিন্ন রকম খাবার খায়। এর মধ্যে অনেক অপকারী পোকা-মাকড় ও কীটপতঙ্গ রয়েছে। এরা ছোট কেঁচো, মৌমাছি, ফুলের মধু, রেশম মথও খেয়ে থাকে। এ ছাড়া এদের খাদ্যতালিকায় আছে ধান-পাট-গম পাতার পোকা, শুয়োপোকা এবং এর ডিম, আম পাতার বিছা পোকা ইত্যাদি।

টুনটুনির কণ্ঠ ভারী মিষ্টি। দূর থেকেও শোনা যায়। টুইট টুইট, চিপ চিপ, টুন টুন প্রভৃতি সুরে এই পাখি ডাকে। এ পাখির লেজ লম্বা। এক ডাল থেকে অন্য ডালে যাওয়ার সময় লেজ পিঠের ওপর তুলে রাখে।

টুনটুনি সারা বছর বংশবিস্তার করলেও এদের প্রজনন ঋতু হিসেবে বর্ষাকালকে ধরা হয়। মেয়ে টুনটুনি একবারে তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে। ডিমের রং নীলচে হয়। ডিম থেকে বাচ্চা হয় ১১-১৪ দিনে। মা পাখি ডিমে একাই তা দেয়। টুনটুনির বাচ্চারা ১২-১৪ দিনে উড়তে পারে।

Comments

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন