আমার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও।
ঢাকা থেকে দূরত্ব প্রায় 490 কিলোমিটার। এটি একটি জেলা সদর। জেলাটিতে রয়েছে 3 টি পৌরসভা, 6 টি থানা, ৫১ টি ইউনিয়ন ও ৫৭০ টি গ্রাম। ঠাকুরগাও নামটি এসেছে প্রাচীন জমিদার নারায়ন ঠাকুর এবং তার ভাই জোতিষ ঠাকুরের নামানুসারে। ঠাকুরগাওয়ের পূর্ব্ নাম নিশ্চিন্তপুর। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে টাংগন নদী। ঠাকুরগাও একটি ছোট্ট শহর। কিন্তু এর ভেতরে ও আশেপাশে অনেক গুরুত্বপুর্ণ স্থান রয়েছে।
বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আমগাছ আমাদের জেলার বালিয়াডাংগী থানায় অবস্থিত।এছাড়া আরো রয়েছে রাণীশৈংকেল রাজবাড়ি, হরিণমাড়ির পুরোনো শিবমন্দির, মোঘল আমলে নির্মিত সনগাও জামে মসজিদ, ফতেপুর সিক্রি, বলাকা উদ্যান, পীরগঞ্জের ফানসিটি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত পুরোনো বিমান বন্দর ( শ্রীঘই চালু হবে আশা করি) ইত্যাদি আরো অনেক দর্শণীয় স্থান।
ভারতীয় সীমান্তে ঘেষা নাগর নদীর তীরে গড়ে ওঠেছে দৃষ্টিনন্দন চাবাগান রনবাগ টি স্টেট যেটা বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বহুল জনপ্রিয়। শিক্ষা্র দিক দিয়েও পিছিয়ে নেই আমাদের এই জেলা।বাংলাদেশের সর্বপ্রথম নিরক্ষর মুক্ত গ্রাম কচুবাড়ির কেস্টপুর আমাদের জেলায় অবস্থিত।এক সময় আমাদের এই শিক্ষা আন্দোলনের নাম ছিল “সুরভিত ঠাকুরগাও”।
কৃষকদের অধিকার আদায়ের জন্য গড়ে ওঠা তেভাগা আন্দোলন, সাওতাল বিদ্রোহ বেশ শক্ত ভাবে গড়ে ওঠেছিল। আমাদের জেলার নৃতাত্ত্বিক গঠনপ্রণালী অন্যান্য জেলা থেকে আলাদা। আমাদের জেলার ভাষা উত্তর বঙ্গের অন্যান্য জেলা থেকে আমাদের জেলার ভাষা অনেকাংশে ভিন্ন। তবে আমাদের জেলার ভাষা্র সাথে চাপাইনবাবগঞ্জের ভাষার কিছু মিল রয়েছে। এখানে বসবাস করে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠির মানুষ যেমন: পলিয়া, মুন্ডা, সাওতাল, রাজবংশী, মালদইহা, কোচ ইত্যাদি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।
আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে ধামের গান, সত্যপীরের গান, কবি গান, পালাগান , ওয়াজ মাহফিল ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। তবে কালের বির্বতনে কিছু হারিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে মার্বেল খেলা, হা-ডু-ডু, বউচি, চৌপাতি, গোল্লাছুট, চোরপুলিশ, ফুটবল এবং কালের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। আমাদের জেলার অথর্নীতির সীমানা ডিঙ্গিয়ে কিছু শিল্পপতি সমগ্র দেশে বিচরণ করছে। এদের মধ্যে রাজ্জাক গ্রুপ, ইজাব গ্রুপ, ইএসডিও প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কিছু বরেণ্য ব্যক্তির জন্ম হয়েছে আমাদের জেলায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে যেই ছাত্র সংগঠনের সবচেয়ে অবদান সবচেয়ে বেশি । বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্মস্থান আমাদের জেলায়। ভোটের জাদুকর নামে খ্যাত বর্তমান সাংসদ আলহাজ দবিরুল ইসলাম এমপি সাহেবেরও বাড়ি আমাদের জেলায়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অঙ্গনে যিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অধ্যাপক শিশির ভট্ট্যাচার্য তার বাড়িও ঠাকুরগাও। বিশিষ্ট নাট্যভিনেতা লিটু অানামের বাড়ি ও আমাদের জেলায়।
সবাই বলে আমাদের জেলার মানুষ সহজ সরল এবং সহজেই প্রতাড়িত হয়। তাইতো জনৈক ব্যক্তি বলেছেন” আমরা সরল সমাজের বাসিন্দা”। তাই আমি আমার জেলাকে ভালোবাসি !
Md. Sabbir Ahmed
Kommentar löschen
Diesen Kommentar wirklich löschen ?
Mohammad Tanvir
Kommentar löschen
Diesen Kommentar wirklich löschen ?