আত্মীয়-স্বজন মারা গেলে কান্নাকাটি করা যাবে কি?
আমাদের সমাজে যদি কেউ মারা যান। তখন তার আত্মীয়-স্বজন হাউমাউ করে কেঁদে থাকেন। শুধু আমাদের দেশ নয়, পৃথিবীর সকল দেশের সকল মানুষই তার আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেঁদে থাকেন। কেউ কেউ আবার তিন-চারদিন বা আরও বেশি দিন কেঁদে থাকেন। আবার অনেক সময় যখন মৃত ব্যক্তির কথা মনে হয়, তখনই কাঁদেন।
কিন্তু এ ব্যাপারে ইসলামের ব্যাখ্যা কী বলছে তা আপনি জানেন কি? নিচে হাদিসের আলোকে তা ব্যাখ্যা করা হলো- মাইয়্যেতের চেহারা খুলে দেখা, চুম্বন করা, তিন দিন পর্যন্ত কান্না করা জায়েয।
জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, «لَمَّا قُتِلَ أَبِي جَعَلْتُ أَكْشِفُ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ أَبْكِي، وَيَنْهَوْنِي عَنْهُ، وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ يَنْهَانِي، فَجَعَلَتْ عَمَّتِي فَاطِمَةُ تَبْكِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَبْكِينَ أَوْ لاَ تَبْكِينَ مَا زَالَتِ المَلاَئِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رَفَعْتُمُوهُ» “(উহুদ যুদ্ধে) আমার পিতা (আব্দুল্লাহ) শহীদ হয়ে গেলে আমি তার মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে কাঁদতে লাগলাম। লোকেরা আমাকে নিষেধ করতে লাগল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেন নি। আমার ফুফী ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাও কাঁদতে লাগলেন। এতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কাঁদ বা না-ই কাঁদ (উভয় সমান), তোমরা তাকে তুলে নেওয়া পর্যন্ত ফিরিশতাগণ তাদের ডানা দিয়ে ছায়া বিস্তার করে রেখেছেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৪৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৪৭১।]
আবু সালামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা আমাকে বলেছেন, «أَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَلَى فَرَسِهِ مِنْ مَسْكَنِهِ بِالسُّنْحِ حَتَّى نَزَلَ، فَدَخَلَ المَسْجِدَ، فَلَمْ يُكَلِّمِ النَّاسَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، فَتَيَمَّمَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُسَجًّى بِبُرْدِ حِبَرَةٍ، فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ، ثُمَّ أَكَبَّ عَلَيْهِ، فَقَبَّلَهُ، ثُمَّ بَكَى، فَقَالَ: «بِأَبِي أَنْتَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ، لاَ يَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْكَ مَوْتَتَيْنِ، أَمَّا المَوْتَةُ الَّتِي كُتِبَتْ عَلَيْكَ فَقَدْ مُتَّهَا» “(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের খবর পেয়ে) আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু 'সুন্হ'-এ অবস্থিত তাঁর বাড়ি থেকে ঘোড়ায় চড়ে চলে এলেন এবং নেমে মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে লোকদের সাথে কোনো কথা না বলে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার ঘরে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে অগ্রসর হলেন। তখন তিনি একখানি ‘হিবারাহ’ ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখমণ্ডল উম্মুক্ত করে তার উপর ঝুকে পড়লেন এবং চুমু খেলেন, তারপর কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আল্লাহ আপনার জন্য দুই মৃত্যু একত্রিত করবেন না। তবে যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল তা তো আপনি কবুল করেছেন”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৪১।]
আব্দুল্লাহ ইবন জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْهَلَ آلَ جَعْفَرٍ ثَلَاثًا أَنْ يَأْتِيَهُمْ، ثُمَّ أَتَاهُمْ، فَقَالَ: «لَا تَبْكُوا عَلَى أَخِي بَعْدَ الْيَوْمِ» “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাফর পরিবারকে কান্না-কাটি করার জন্য তিনদিন সময় দিলেন। অতঃপর তিনি জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের কাছে এসে বললেন, তোমরা আমার ভাইয়ের জন্য আজকের দিনের পরে আর কাঁদবে না”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৯২। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
Read le
Mukta Moni
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
Mohammed Nur Nobi
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
Md Siam
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
Md Zayid
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
RONE KHAN
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
MUJAHED ISLAM
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
MIRAJUL ISLAM
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
Abdullah Al Arafat
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?