জাহিদ কয়েকদিন আগে ইতালি থেকে ফিরেছে। তিনি অত্যন্ত সচেতন একজন মানুষ। তাই হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারে অনড়। বাড়িতে ওঠার আগেই তার মাকে বলেছে যদি এক রুমের মধ্যে একাকী তাকে চৌদ্দ দিন না থাকতে দেয়া হয় তবে সে অন্যত্র ব্যবস্থা করবে। সব শুনে মা তাকে আশ্বাস দিলো তার রুমে কেউ যাবে না। অবশেষে সে বাড়িতে এলো। প্রথম দিন ভালোই কাটছে এমনকি বৌ তার রুমে আসছে না। রুমের বাইরে ঘুরঘুর করেছে।
দ্বিতীয় দিন সকালে ছোট বোন তার সাত বছরের ছেলে নিয়ে হাজির। এসেই ভাইকে এভাবে রুম বন্দি করার জন্য ঘরের অন্যদের গালিগালাজ শুরু করল। কত দিন ভাইকে দেখিনি এই বলে জাহিদের জানালার পাশে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বলল,” ভাই-গো দরজা খোলো, মরতে হইলে দুই ভাই বোন একসাথে মরমু।“ জাহিদ ভিতর থেকে ঘোষণা করল বের হয়ে তার বত্রিশ দাঁত ফেলে দেবে। বোন তখন হাউমাউ করে কেঁদে জাহিদের বউকে জানিয়ে গেলো বিদেশি জিনিসের লোভে সে আসে নাই। সব যেন শ্বশুর বাড়ির লোকদের ভাগ করে দেয়। ছোট খালার এই খবর বড় বোনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে বান্টির কানে পৌঁছল। বান্টি তার মাকে বলল দুচার কথা শোনানোর জন্য তাকে মামা বাড়িতে যেতে হবে। নইলে মামার শ্বশুর বাড়ির লোকজন মাথায় উঠে বসতে পারে। জাহিদের বড় বোন তার ছেলের কথায় যুক্তি খুঁজে পেলো। বললেন- যা, তবে বেশি কিছু বলিস না। তোর কিন্তু একটাই মামা।“ বান্টি প্রতিশোধ নিতে এসে নিজের দাবির কথাও তুলল। জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে প্রথমে বলল- মামা তোমার ভণ্ডামি ছাড়ো। আমরা সব বুঝি। তুমি আলাদা রুমে থাকবা আর সবার সাথে এক টয়লেটে গিয়া বলো কোয়ারান্টাইন!
ওপাশ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে বলল- ক্যামেরা আনতে বলছিলাম, আশাকরি ভুলো নাই। আবার শ্বশুর বাড়ির কাউরে দিয়া বইলো না, মিস্টেক হইছে। তাইলে খবর আছে।“
ভাগ্নে চলে যাবার পরে জাহিদের মনে হলো আসলেই তো এই রুমে আলাদা টয়লেট নেই। তখন ঘরের সবাইকে সতর্ক করল তার টয়লেট ব্যবহার না করার জন্য।
পরদিন জাহিদের নানা এলেন পানি পড়া নিয়ে। এবার জাহিদের মা তদবিরে নামলেন। ছেলেকে বুঝালেন তার নানা নেক আমলদার মানুষ। মাথায় শুধু একটা ফুঁ দিয়ে চলে যাবেন। জাহিদ ছিটকিনি ছাড়া টয়লেটে বসা ব্যক্তিটির মতো কয়েকটা ঐচ্ছিক কাশি দিলো। শুনে তার মা বললেন- ফালতু কাশি দিয়া লাভ নাই। অনেক দূর থেকে এসেছেন, ক’দিনই আর বাঁচবেন। বুড়ো মানুষটার মনে কষ্ট দিস না।
জাহিদ তখন জানালার পাশে এসে দাঁড়ালো। তার নানা গ্রিলের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে মাথা স্পর্শ করে ফুঁ দিলেন। তখন আমলদার নানার বাষ্পীভূত লালার কিছু অংশ জাহিদের চোখমুখে পরল।
চতুর্থ দিন দুপুরে ছোট কাকা-কাকী আসলেন রুটি পিঠা আর হাঁসের ভুনা মাংস নিয়ে। জাহিদের মা এবার বললেন শ্বশুর বাড়ির বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। চাচা নিয়মিত বিরতিতে ঘোষণা করছেন ছয় হাট ঘুরে তাজা হাঁস জোগাড় করার সংবাদ। জাহিদ ছোট কাকার সাথে বসে বিদায়ী শীতের শেষ তৈলাক্ত হাঁস ভক্ষণ করলো।
বিকেলে জাহিদের বন্ধু বাবু আসল। রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি শুরু “ আরে মোগো ভুইল্যা গেলি নাহি। কিছু দেওয়া লাগবে না। রুম থেকে বাইরা। কতদিন একলগে বইয়া চা খাই নাই।“ জাহিদ কোনরকম তাকে বিদায় দিলো। যাবার সময় রাগে গজগজ করে বলতে লাগল,”বিপদে পড়লে আবার বোলাইস।“ এদিকে প্রতিবেশীরা দেখা করতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। সবাই রেগে কটমট। সবার কথা বিদেশ থেকে ছেলেটা বেয়াদব হয়ে ফিরেছে। জাহিদের বৌয়ের চোখ ক্রমশ বড় হতে শুরু করেছে। এই ক’দিন মুখ বুজে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো। এবার সুযোগ সৌদিআরব থেকে এসেছে। বিদেশ থেকে তার দুলাভাই এসেছেন। জাহিদকে সরাসরি বলল-এতদিন মুখ বুজে সয়েছি। বাড়ির সবাইকে আসতে নিষেধ করেছি। আজ আমার সাথে বড় আপার বাসায় যাবে।
- আরে দুলাভাই গতকাল সৌদি থেকে এসেছে!
- তাতে কী? তুমি ইটালি থেকে এসে নানার ফুঁ নিতে পারো আবার কাকীর হাতের রুটি পিঠা খেতে পারো আর যত নিষেধ সৌদি আরবে। সব বুঝি। আমার বাড়ির নাম শুনলেই তোমার গায়ে নুন মরিচ লাগে! দুলাভাইয়ের সাথে দেখা করতেই হবে নইলে আমি চললাম।
জাহিদ বউয়ের কথায় রাতে কয়েক ঘন্টার জন্য যেতে রাজি হলো। দুই ভায়রা-ভাইয়ে ইউরোপ, এশিয়ার নানান সত্য -মিথ্যা গল্পগুজব করল। জাহিদ অনেক রাতে বাড়ি ফিরল।
একসময় জাহিদের হোম কোয়ারান্টাইনের চৌদ্দ দিন শেষ হলো। এতদিন যারা তার আচরণে কষ্ট পেয়েছে সেসব বন্ধু, প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত করল। ছোট বোন বাদে সবাই এসেছে। সব মিলিয়ে আশি নব্বই জন হবে। জাহিদ রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে সবকিছুর তদারকি করছে। এমন সময় বান্টি এসে বলল- মামা, বাড়ির দরজায় কে যেন তালা লাগিয়েছে।
জাহিদ হনহনিয়ে সামনে এসে দেখল সত্যি সত্যি তালা লাগানো। বাহির থেকে। বাইরে দাঁড়ানো পুলিশকে বলল- আমার হোম কোয়ারানটাইনের চৌদ্দ দিন শেষ!
- ভাই আপনার চৌদ্দ দিন শেষ। কিন্তু আপনার ভায়রার করোনা ধরা পড়ছে। তার সংস্পর্শে আসা সবাইকে ফের চৌদ্দ দিন কোয়ারান্টাইনে রাখতে হবে।
- আর এসব অতিথিরা!
- এই সময়ে ঘটা করে দাওয়াত দিছেন। এখন বোঝেন ঠেলা।
কিছুক্ষন পর ছোট বোন ফোন দিলো- তোর ব্যবহারে সেদিন কষ্ট পেয়েছি। এখন দেখছি আমি তোকে যতটা ভালোবাসি তার থেকে তুই আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসিস।
জাহিদের কোয়ারান্টাইন
#collected
Mohammed Nur Nobi
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
Alex Mehedi
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
saad khandokar
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
Hasan faisal
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?
Nabil_Afridi_317
supprimer les commentaires
Etes-vous sûr que vous voulez supprimer ce commentaire ?