রহিম মিয়া, বাড়ির পাশে পুকুর খনন করতে গিয়ে আজব এক জিনিস পেলেন!
জিনিসটি কি কোনোভাবেই তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। জিনিসটি দেখতে চ্যাপ্টা, লোহার মতো ধাতব পদার্থের। একটা হাতি দিয়ে কোনো এক কাদা মাটিতে পারা দিলে, যে আকৃতি হবে দেখতে তেমনটাই। কথিত আছে যে, রহিম মিয়াদের গ্রামে আগে মুঘলরা বসাবাস করতেন। এখানের জনপদে তাদের আনাগোনায় এক সময় তাদের পদ চিহ্নে মুখরিত হতো। তাই রহিম মিয়ার ধাতব জিনিসটি নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। এটা কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়তো?
রহিম মিয়া জানেন যে, এমন জিনিসের বর্তমান বাজারে অনেক দাম। তিনি এটাও জানেন যে, যেখানে এমন নিদর্শন একটা পাওয়া যায়, সে জায়গা খুঁড়লে অনেকগুলোই পাওয়া যায়। তাই তার খুশির অন্ত নেই।
তবে,আগে জানতে হবে জিনিসটি কী!
তিনি ভাবেন, যদি এখন পুকুর খনন করতে থাকেন, তাহলে পুরো গুপ্ত সম্রাজ্য বিরিয়ে আসবে।
আর তাতে যদি এলাকার মেম্বার- চেয়ারম্যানরা ভাগ বাঁটোয়ারা করে নেন, তাহলে তো রহিম মিয়ার কোনো লাভ হবে না। এই ছাড়াও রয়েছে পুলিশ-ডাকাতের ভয়। তাই তিনি পুকুর খননের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। রহিম মিয়া প্রাপ্ত অদ্ভুত জিনিসটি লুঙ্গির তলে ঢুকিয়ে, এক দৌঁড় দিয়ে বাসায় চলে যান।
তারপর, বউকে ডেকে এনে জিনিসটি দেখিয়ে বলেন:তুই আঁরে কি ভাবছচ? আঁই শুধু খাই আর ঘুম যাই! দেখ, আঁই কত মুল্যবান জিনিস হাইছি। এই জিনিস বেচি, আঁই যদি বড়লোক না হই, হরে আরে কইছ! আঁই, বড়লোক ওইগেলে হে টিয়া দি তোরে কাবিননামার টিয়া পরিশোধ করি, তরে দুম্বায় দিমু। হরে নায়িকা পূর্ণিমারে বিয়া করমু, চাইচ। জল্লাদ মাইয়াওয়ালা!
বউ, শুধু কাঁদতে থাকে। তার এতদিনের অহংকার একনিমিষেই সব উধাও হয়ে যায়। এতদিন ধরে, রহিম মিয়াকে কতই না জ্বালিয়েছে, রহিম মিয়ার মতো বেচারাকে কাঁদিয়েছে।
তার প্রায়শ্চিত্ত, রহিম মিয়ার বউ কান্না দিয়ে করতে থাকে।
পা ধরে মাফ চাইতে থাকে রহিম মিয়ার। রহিম মিয়াও কম যায় না, সেও এক লাথি দিয়ে বউকে মেঝেতে ফেলে দেয়। বউ শুধু নাক কান্না করতে থাকে।
রহিম মিয়া চিন্তা করে, তার পাওয়া জিনিসটি মুলত কি! আগে তার পরিচয় বের করতে হবে। তবে, এটা যে বিশেষ কিছু, তাতে তার সন্দেহ নেই।
সে উপায়ন্তর না পেয়ে তার বন্ধু মোখলেছ এর কাছে যায়। সেই তার একমাত্র আশার প্রতিক।
জিনিসটি নিয়ে গিয়ে দেখালে, সেও কিছুই বলতে পারেনা।
সেও কিছুই বুঝতে পারেনা। শিক্ষিত লোকের কাছে গেলে নিশ্চিত তাদের সাথে প্রতারণা করবে, তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় কোনো শিক্ষিত চোরের কাছে যাবে না।
রহিম মিয়ার বন্ধু, তার বন্ধুর সুযোগে সৎব্যবহার করে। সে বলে যদি তাকে ২০% এর থেকে না দেয় তাহলে সে গ্রামের মেম্বর আক্কাস আলীকে বলে দিবে। আক্কাস মেম্বর সুদ-ই। সে টাকার জন্য বাড়িতে আগুন দিতেও পিছ পা হয় না। তাই রহিম মিয়া মেম্বরকে বলার কথা শুনে, বারংবার ঢুক গিলতে থাকে। শেষে ভেবে বন্ধুর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। তবে, কাউকে না বলতেও শর্ত জুড়ে দেন।
রাতে ঘুম আসে না রহিম মিয়ার, এত মুল্যবান জিনিস তার ঘরে যদি ডাকাত পড়ে। যদি মোখলেছ কাউকে বলে দেয়, সে চিন্তাই তার শরীরের মেধ কমে যায়।
সকাল হতেই, মসজিদে তিনি চলে যান। ফজরের নামাজ আদায় করে। এতো মুল্যবান জিনিস যে পেয়েছে, তার তো ইবাদতেরও প্রয়োজনও আছে, নাকি?
নামাজ শেষে, মসজিদের সভাপতির চেহারার দিকে তাকিয়ে তার বিশ্বাস জাগে। সভাপতিকে তো অবিশ্বাস করা যায় না। তাই জিনিসটি এনে দেখায়।
দেখে, অনেক চেষ্টা করেও বুঝতে পারেন না তিনি। তবে, মুল্যবান জিনিস বলে স্বীকৃতি দেন তিনি। তিনি রহিম মিয়াকে বলে, গরীবদের প্রাপ্ত অর্থ থেকে ১০% তাকে দিতে,এতে আল্লাহ খুশি হবেন। যেহেতু গরীবের মামলা, তাই সে রাজি হয়ে যায়।
এখনো ৭০% তার হাতে। জিনিসটা থেকে এক কোটি পেলে, ৭০% মানে ৭০ লাখ টাকার মতো থাকে, যা অনেক। আর একটা জিনিস থেকে ৭০ লাখ টাকা পেলে, তার পুকুর খননতো রয়েছেই। সেখানে কত হাজার কোটি টাকা হবে তার হিসাব নেই। রহিম মিয়া পড়ালেখা তেমন না করলেও টাকার হিসাবে তিনি যে একদম পাক্কা।
বাড়িতে এসে পান্তা ভাত দিতে দেরী হতেই টাকার গরমে দেয় তার জল্লাদ বউকে মাইর। বউ শুধু নিরবে কাঁদতেই থাকে। এখন শুধু বউ এর হাতে, পা ব্যথার কাজ সারায় নিয়মিত সে।
কিন্তু জিনিসটা কি, তা তার জানা হলো না।
জিনিসটা নিয়ে চলে যায় রহিম মিয়ার ওস্তাদজি আনোয়ার সাহেবের কাছে। ওস্তাদ মানুষ হয়তো বুঝবেন, সে আশায়। ওস্তাদদের মধ্যে রহিম মিয়া আনোয়ার সাহেবেই একমাত্র জীবিত আছেন।
জিনিসটি ওস্তাদকে দেখালে, তিনিও কিছুই বুঝতে পারেন না। তার না বুঝতে পারা থেকে ওস্তাদজি বুঝেন যে, জিনিসটি মুল্যবানই হবে। তাকে ওস্তাদ হিসেবে ২০% দেয়ার জন্য রহিম মিয়াকে দাবি করে। তিনি আরো বলেন, ওস্তাদ খুশি হলে আল্লাহ খুশি হন। আল্লাহ যেখানে খুশি, সেখানে রহিম মিয়ার কিছু বলার অপেক্ষা রাখেনা, সেও দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন। শত হোক রহিম মিয়ার আখেরী ওস্তাদ।
আর রহিম মিয়ার পুকুরের গুপ্ত ভান্ডার তো রয়েছেই, তার আর চিন্তা কিসের!
রহিম মিয়ার বন্ধু মোখলেছ তার এক আত্মীয় উকিলের খোঁজ দেন, তিনি বিশ্বস্ত মানুষ তার কাছে বললে এর সমাধান হয়ে যাবে,তা জানায়।
আরো রহিম মিয়াকে তার বন্ধু জানায় লোকটি সৎ। শেষে রহিম মিয়া রাজি হয়।
উকিলের কাছে গেলেও কুল কিনারা কিছু হয়না। তিনিও ব্যর্থ হন। তাকে সৎ হিসাবে ১০% দেয়ার দাবি করেন। তিনি যেহেতু সৎ, তাই রহিম মিয়া রাজি হয়ে যায়।
উকিলের কথা মতো পুলিশের ওসি ও ডাক্তারের কাছে গেলেও কাজ হয়না। আরো ১৫%+১৫% =৩০% টাকা তার কাঁধে চাপে। রহিম মিয়ার প্রবলেম কিসের, রহিম মিয়ার তো পুকুরের খনন কাজ রয়েছেই।
শেষে সবাই প্রাপ্ত অর্থ পেতে রহিম মিয়ার ভাড়িতে ভীড় করে। রহিম মিয়াও জানিয়ে দিয়েছে, জিনিসটি কি তা জানা ছাড়া কোনো টাকা উনি দিবেন না।
এদিকে, তার জল্লাদ মুটকি বউ তাদের চা দিতে দেরী করলে রহিম মিয়া তাদের সামনে বউকে চুল ধরে মারতে থাকে। কেউ কিছু বলে না। আজ সমাজের সবাই যে তার হাতের মুঠোয়। টাকার কাছে ক্ষমতা যে অচল।
বউ শুধু কান্না করে, মাটি ভিজিয়ে দেয়।
সবার মত নিয়ে সবাই গেলো গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক লোক আদিম চাচার কাছে। তার বয়স কম করে হলেও ১১০ হবে। আদিম চাচাকে জিনিসটি দিলে, তিনি কিছুক্ষণ পর কাঁদতে থাকেন। আবার কিছুক্ষণ পর হাসতে থাকেন।
সবাই কিছু বুঝেনা। তখন আদিম চাচা বলেন, জিনিসটি কিয়া আঁই বুঝতাম হারছি। প্রথমে আই কাঁদছি এই কারণে যে এটা আঁর দাদার প্রিয় একটা জিনিস আছিল, যা আঁই অনেক খুজ্জি হাইনু।
রহিম মিয়া কথার মাঝখানে বলে, আর হাইসসেন যে?
আদিম চাচা বলে, এটা ওই জিনিস, যেখানে আঁর দাদা,হরে আঁর বাবা এবং ছোট থাইকতে আঁই এই জিনিসে হেশাব কইরতাম। এইয়া আনগো খানদানি হেশাব করবার চিলোমচি আছিল। ধন্যবাদ, তোয়ারে।
রহিম মিয়া তাকিয়ে দেখে, তার পিছনে থাকা সবাই কথাটা শুনে বুকে হাত দিয়ে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে।
রহিম মিয়াও তার জল্লাদ বউয়ের কথা মনে করে, ওয়াক থু বলে ধপাস হয়ে মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।।
#গল্পঃওয়াক_থু।
#collected
Shamim Iqbal
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Mansur Alam Badhon
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Mohammed Nur Nobi
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Hasan faisal
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?