ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও আমাদের করণীয়
বাংলাদেশ ডেঙ্গু (ডেঙ্গি) জ্বরে কাঁপছে। ডেঙ্গু জ্বর মূলত এডিস এজিপ্টি (Aedes aegypti) মশার কামড়ে হয়। তবে সব মশার কামড়ে এ জ্বর হয় না। এই মশা তখনই ক্ষতিকর হবে যখন এই মশা ডেঙ্গু জ্বরে সংক্রমিত কোনো ব্যক্তিকে কামড় দেবে। ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস তখন এই মশা বহন করবে এবং এই মশা যখন কোনো সুস্থ মানুষকে কামড় দেবে তখন ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন।
এডিস মশার নানা প্রকার আছে। তার মধ্যে এডিস এজিপ্টি ডেঙ্গু ভাইরাস বহন ও তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। এবার আমরা দেখি এডিস এজিপ্টি দেখতে কেমন?
বিশ্বখ্যাত জার্নাল নেচারের বর্ণনানুসারে এডিস এজিপ্টি ছোট ও কালো মশা। যাদের পায়ে সাদা ব্যান্ড ও শরীরের রুপালি সাদা রেখা আছে। ছবিতে দেখুন। ছবি থেকে এ মশা চিনে নিতে আরও সহজ হবে।
ডেঙ্গু মশা মূলত ট্রপিক্যাল বা সাব ট্রপিক্যাল এলাকায় বসবাস করতে পছন্দ করে। এরা মূলত গরম দেশ পছন্দ করে। সেই হিসেবে আমাদের দেশে এই মশা বেশি হবে এটা খুব যৌক্তিক। যার কারণে হরহামেশাই আমরা এই মশার কামড় খাই হয়তো। কিন্তু সবাই কেন এই মশার কামড়ে আক্রান্ত হয় না?
ডেঙ্গু ভাইরাসের চার ধরনের স্ট্রেইন আছে: ডেন (DEN) ১, ২, ৩ ও ৪। মূলত ডেন ১ ও ২–এর কারণে ডেঙ্গু জ্বর হয়। যাঁদের শরীর এই স্ট্রেইনের বিপরীতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না, তাঁরা বেশি সংক্রমিত হন।
ডেঙ্গু ভাইরাসের আক্রমণে দুই ধরনের সমস্যা হয়। ক. ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডিএইচএফ) ও খ. ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (ডিএসএস)। ডিএসএস হলো ডিএইচএফের পরের ধাপ এবং এই ডিএসএস রোগীর জন্য খুবই বিপজ্জনক।
সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। শরীরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়াও আরও কিছু উপসর্গ দেখা যায়। যেমন, অত্যধিক অ্যাবডোমিনাল ব্যথা হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যায়। বমি বমি ভাব হয়। শরীরে অনেক সময় পানি জমে। প্লাটিলেট সংখ্যা কমতে থাকে।
কিন্তু ডেঙ্গু জ্বর যদি আরও জটিল অবস্থার দিকে যায় তখন ডেঙ্গু শক হয়। ডেঙ্গু শক হলে যে উপসর্গগুলো সাধারণ হয় তা হলো, চামড়া ভেদ করে রক্ত চলে এসে চামড়ার ওপর কালো দাগ পড়ে। কালো পায়খানা হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত ঝরে। রক্তের প্লাজমা লিকেজ হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। লিভার ও হার্টের ক্রিয়া ক্ষমতা হ্রাস পায়।
এবার বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে এই ডেঙ্গু শক বেশি হচ্ছে। মূলত শরীরের ফ্লুইড বের হয়ে যাওয়ার কারণে হঠাৎ শকে মানুষ মারা যাচ্ছে।
ডেঙ্গু মশার আরও একটি ভয়াবহ দিক হলো, যেহেতু চার ধরনের স্ট্রেইন এরা বহন করে এবং বারবার বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেইন হুল ফুটানোর মাধ্যমে মানুষের শরীরে আসতে পারে, তাই এ জ্বরের সঠিক চিকিৎসা অনেক সময় হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তি হয়তো শরীরে একধরনের স্ট্রেইনের বিপরীতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করেছে; কিন্তু দ্বিতীয়বার অন্য স্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত হলে শরীর সেই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। ডেঙ্গু মশার এই নানা রূপের কারণে এবার মানুষের বেশি সমস্যা হচ্ছে।
জ্বর হলে তাই অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। তা ছাড়া যেহেতু এবারের জ্বরে ফ্লুইড ঝরে যাচ্ছে শরীর থেকে তাই জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর ফ্লুইড জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।
এ ছাড়া ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ডেঙ্গু মশা নিধন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। ডেঙ্গু মশা থেকে বাঁচতে যাঁর যাঁর বাড়ির সামনে–পেছনে সব জায়গা পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা–আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা যাবে না। মনে রাখতে হবে জীবন আপনার এবং আপনাকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এগিয়ে না এলে সরকারের পক্ষে একা সমস্যা উত্তরণ কঠিন হয়। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের ডেঙ্গু সমস্যা দূর হবে, এই প্রত্যাশা করি।
ড. মো. ফজলুল করিম: পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো, ফার্মাকোলজি ও কেমিক্যাল বায়োলজি বিভাগ, স্কুল অব মেডিসিন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
Rj Bhadhan
Yorum Sil
Bu yorumu silmek istediğinizden emin misiniz?
Sahoriar Jihad
Yorum Sil
Bu yorumu silmek istediğinizden emin misiniz?
Sheikh Shovon
Yorum Sil
Bu yorumu silmek istediğinizden emin misiniz?
Labu Rahman
Yorum Sil
Bu yorumu silmek istediğinizden emin misiniz?
Habibullah Mullah
Yorum Sil
Bu yorumu silmek istediğinizden emin misiniz?
Rj Bhadhan
Yorum Sil
Bu yorumu silmek istediğinizden emin misiniz?
Sahoriar Jihad
Yorum Sil
Bu yorumu silmek istediğinizden emin misiniz?