"রমজানের সংযম"
হাছান মজুমদার
অামরা মুসলমান, এটা অামাদের জন্মগত অহংকার । কারন অামরা বোধকরি ইসলাম শান্তির ধর্ম । এই ধর্মে রয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ কোরঅান শরিফ ।যেখানে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ অবদি সমস্ত কিছুর বর্ণনা রয়েছে । ইসলাম ধর্ম সহ মানবজাতির জীবন যাপনের নির্দেশনা দেওয়া অাছে এই গ্রন্থে ।
ইসলাম ধর্মে প্রতিদিনের নামাজ ছাড়াও রয়েছে কিছু রীতিনীতি। যার মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় উৎসব।কেউ পালন করুক অার না করুক এসব সবারই জানা। ধর্মীয় রীতিনীতির মধ্যে রমজানের ভুমিকা বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। কারন রমজান মাসের কার্য কালাপ বদলে দিতে পারে কারো পুরো জীবনের হিসাব । রমজান বিশেষ ছাড় দেওয়া অাছে, বিশেষ সুযোগ রয়েছে নিজেকে সংযত করার।
অাসলে কি অামরা তাই করি ? একটি মুসলিম প্রধান দেশ, যার প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ মুসলিম হওয়া সত্তেও অামার ধারনা মতে রমজানেই চলে সবচেয়ে বেশী অনিয়ম। সবচেয়ে বেশী দুর্নীতি, কি চলেনা এসময়, বছরের বাকি এগার মাসকে চাপিয়ে এসময় যা কিছু ঘটে তা সত্যিই দুঃখ জনক।
খাদ্যে ভেজাল সহ সব ধরনের পন্যে যেমনি দেওয়া হয় ভেজাল, তেমনি নেওয়া হয় অতিরিক্ত দাম, যা অনেকেরই ক্রয় করার ক্ষমতা থাকে না। অথছ একটু চোখ খুলে তাকালে দেখা যাবে এ সময় সবকিছুর সরবরাহ অনেক বেশী থাকে ।প্রশ্ন হল তাহলে দাম বাড়লো কেন ।
সবকিছু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। অাপনি একজন সচেতন মানুষ হলে নিশ্চয় কিছুটা দায়িত্ব নিতে পারেন। সরকার কখন এসবের মনিটরিং করবে কিংবা অতিরিক্ত পন্যের অামদানি করবে, যখন দাম কমবে, অার তখন অামরা কিনবো । অাসলে কি তাই হয়। সরকারের শত মজুদের পরও পন্যের দাম হুরহুর করে বাড়তে থাকে ।এখানে অামাদের কি করনীয়। ভেজাল বন্ধ করা হয়ত দুরহ বেপার, কিন্তু ইচ্ছে করলেই পন্যের দামের লাগামটা ধরে রাখা য়ায় ।কিন্তু কিভাবে তাইতো ..............
অাপনার প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অাগে ,অামার প্রশ্নের উত্তর দিন ।অাচ্ছা বলুনতো একটি মুরগী দিনে কয়টি ডিম পাড়ে,
সবার জানা কথা,
একটি ডিম,
মানে এিশ দিনে এিশটি,
এবার চিন্তা করুন, প্রায় প্রতিটি জিনিষ নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে উৎপন্ন হয় ।য়েমন ধরুন গাভী দুধ দেয়, প্রতিদিন নিয়ম করে, কিন্তু একমাসের দুধ একদিনে দিবে না, এভাবে প্রায় প্রতিটি জিনিষ প্রতিদিন নিয়মের মধ্যে উৎপন্ন হয় ।অথচ অামরা রমজানে শুরুতেই যে কাজটি করি তা খুব নিন্দনীয়। অার তা হলো রমজান অাসছে তারজন্যে সারা মাসের পন্যে সামগ্রী মজুদ করতে থাকি। কে কার অাগে কত বেশী মজুদ করতে পারবো সেইতো জিতে যাব ।অথছ একবারও চিন্তা করিনা, অামি যে একদিনে সারামাসের পন্যে মজুদ করলাম, এগুলোতো একদিনে উৎপন্ন হয়নি। তাহলে অামি কি করলাম, নিচ্ছয়ই অন্যে কারো ক্ষতি করলাম। অর্থাৎ অামার এই অসংযম কাজের জন্যে অন্যে কেউ বাজারে গিয়ে পন্যটি পাবেনা, অথবা যদি পায় তাহলে তার দাম হয়ে যাবে দিগুণ, কারন জিনিষ কমে গেলে তার চাহিদা বেড়ে গেলে দামতো বাড়বেই।
ভাবতে পারেন অাপনার টাকা অাছে, তাই একবারে সারা মাসের বাজার করে নিলেন ।কিন্তু একবার ভাবুন যার টাকা মজুদ থাকে না, যে দিন অানে দিন খায় ,তার কথা ।সে তো দিগুণ দাম দিয়ে কিনতে পারবে না ।রোজ রোজ যা অায় করবে তা দিয়ে যা পাবে তাই কিনবে। পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য, সে তার চাহিদা মত কিনতে পারবে না। তাই হয়তো অর্ধাহারে থাকতে হবে ।
এবার বলুনতো অাপনি যা করলেন, এটি কি সংযম হলো, অথচ রমজানতো সংযমের ডাক নিয়ে এসেছিল।
সরকার কি করবে, না হয় দশ মজুদদারি ব্যবসায়ীকে অাটকাবে কিন্তু লাখো মজুদদারি পরিবারকে অাটকাতে পারবে না, যাদের জন্যে কোটি পরিবার অসহায় হয়ে যায় ।
তবে সরকার পারিবারিক মজুদদারি থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে না পারলেও পন্যে ভেজাল কারিদের কবল থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব এড়াতে পারে না। কারন পন্যে ভেজালতো লাখ লাখ পরিবার করে না, লাখ লাখ পরিবারতো শুধু ভেজালের থাবায় পড়ে কাতরাচ্ছে । কিন্তু ভেজালতো করে কিছু ব্যবসায়ী , অার তারা সবাই সরকারের নাগালের মধ্যে থাকে।
তাহলে অামরা কিভাবে সংযমী হব। এটাতো শুধু মাত্র সামাজিক অবস্হানের দিক থেকে অালোকপাত, এছাড়া ইসলামের দৃষ্টিতে সংযমের ব্যাখ্যা দেওয়ার সাধ্য অামার নেই, কারন সভ্যতার এই যুগে সবারই সব জানা, শুধু মানা হয় না ।
ধর্মীয় অাঙ্গিকে সংযমের ব্যখ্যা দেওয়ার কোন মেধা অামার নেই, কিন্তু সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে সকলের কাছে অনুরোধ কেউ রমজান মাসের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ করবেন না।
অন্তত সেই মানুষ গুলোর কথা ভেবে, যারা দিন অানে দিন খায়। তাহলে হয়তো রমজান মাসের সংযমের ডাক কিছুটা সার্থকতা পাবে ।
যারা খাদ্যে ভেজাল মেশান, তাদের অার কি বলব, শুধু একটু অনুরোধ এ মাসে অন্তত এটা করবেন না। সারাদিন রোযা রখার পর সম্পুর্ন খালি পেটে এক টুকরো ভেজাল মেশানো খাবার একজন মানুষকে কোথায় নিয়ে যায় তা অন্তত অাপনাদের অজানা নয়, অার যদি অজানা হয় তাহলে প্রতিটি হাসপাতালে গিয়ে একবার দেখে অাসবেন ।হয়তো দেখতে পাবেন অাপনার কোন অাত্নীয় বা কোন প্রতিবেশী কিভাবে কাতরাচ্ছে ।
Md. Ismail Hossain
Verwijder reactie
Weet je zeker dat je deze reactie wil verwijderen?
Habibullah Mullah
Verwijder reactie
Weet je zeker dat je deze reactie wil verwijderen?
Alex Beibar
Verwijder reactie
Weet je zeker dat je deze reactie wil verwijderen?
Henrey Kowshik Pramanik
Verwijder reactie
Weet je zeker dat je deze reactie wil verwijderen?
Shahadat Hossain
Verwijder reactie
Weet je zeker dat je deze reactie wil verwijderen?
Washiuzzaman lunar
Verwijder reactie
Weet je zeker dat je deze reactie wil verwijderen?
Rasel Ahmed
Verwijder reactie
Weet je zeker dat je deze reactie wil verwijderen?
Mehedi Hasan
Verwijder reactie
Weet je zeker dat je deze reactie wil verwijderen?