পহেলা বৈশাখ: ইতিহাস – বিকৃতি; শিরক ও অশ্লীলতার সংযোজন

বাংলাদেশে ১৪ই এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গে ১৪ বা ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ পালন করা হয়। ভারতে মোগল শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হতো। হিজরী পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবর তার দরবারের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লাহ শিরাজীকে হিজরী চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ৯৯২ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খৃস্টাব্দে সম্রাট আকবার এ হিজরী সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসনে আরোহনের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরী সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ইতোপূর্বে বঙ্গে প্রচলিত শকাব্দ বা শক বর্ষপঞ্চির প্রথম মাস ছিল চৈত্র মাস। কিন্তু ৯৬৩ হিজরী সালের মুহাররাম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস, এজন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১লা বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়।

মোগল সময় থেকেই পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কিছু অনুষ্ঠান করা হতো। প্রজারা চৈত্রমাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পহেলা বৈশাখে জমিদারগণ প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন এবং কিছু আনন্দ উৎসব করা হতো। এছাড়া বাংলার সকল ব্যবসায়ী ও দোকানদার পহেলা বৈশাখে ‘হালখাতা’ করতেন। পহেলা বৈশাখ এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এটি মূলত: রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন নিয়ম-কানুনকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে কাজ-কর্ম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ছিল। এ ধরনের কিছু সংঘটিত হওয়া মূলত ইসলামে নিষিদ্ধ বলার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

বিরোধ মূলতঃ ৪ টি মৌলিক ক্ষেত্রেঃ
১। রমনা বটমূলে সূর্য ওঠার সাথে সমবেত কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে সূর্যকে আহবান, নতুন বর্ষকে বরণ করে নেয়া – যা মূলত শিরক। সূর্যকে আহ্বান করতে পারে কেবল সূর্যপুজারীরা।
২। চারুকলা থেকে এরপর বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা। এটি মূলত শিরক ও মূর্তিপূজা। মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে অমঙ্গল দূর হয়ে যাবে মনে করাটা শিরক। আর মিছিলে বিভিন্ন ধরণের মূর্তি বহন মূর্তি পূজারই নামান্তর।
৩। কপালে লাল টিপ পরে মেয়েদের লাল পাড়ের সাদা শাড়ি সহ পাঞ্জাবী পরা ছেলেদের হাত ধরে শহরময় ঘুরে বেড়ানো। এতে অশ্লীলতার প্রসার ঘটে।
পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে নাচ, গান, বাদ্য – এসব মূলতই ইসলামে হারাম।

উপরের সব কয়টি 'কাজ' পবিত্র কুরআন এবং হাদীসের আলোকে স্পষ্টতঃ শিরক, কুফর বা হারাম।
রাসুল ﷺ বলেন,
من تشبه بقوم فهو منهم
- যে ব্যাক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করবে সে তারই অন্তর্ভুক্ত হবে।

৪। তাছাড়া ইসলাম দুই ঈদ ও জুম্মাবার ছাড়া বিশেষ উৎসবকে জাতীয়ভাবে উদযাপনের অনুমতি দেয়না।

হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) মদীনাতে আগমন করলেন, আর মদীনাবাসীর দুটি দিন ছিল যাতে তারা বিনোদন বা খেলাধুলা করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, "এই দিন দুটি কি?" তারা বলল, 'আমরা এই দিনে জাহিলি যুগে খেলা ধুলা করতাম।' তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, "মহান আল্লাহ তোমাদেরকে এই দিন দুটির পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। আর তা হলো ঈদুল ফিতরের দিন ও ঈদুল আযহার দিন।" [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৩৪]

হে রব্ব, আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের সঠিক বুঝ দাও। আমীন।

image

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন