রাত্রে বাসায় ফিরতে না ফিরতেই বউ শুরু করলেন ওয়াজ, "আমার মা অসুস্থ আর তুমি সারাদিন একবারও তার খোঁজ নাও নি। তোমার সাথে বিয়ে বসাটাই আমার ভুল ছিলো। পাশের বাসার ভাবীর স্বামী কতো সুন্দর করে শ্বশুর শাশুড়ির খোঁজ নেয় প্রতিনিয়ত। কিসের মানুষ তুমি, হ্যাঁ? ছাতার মানুষ তুমি। আমার মা বিছানায় পড়ে আছে তুমি তা জানোই না।" বলেই ফ্যাতফ্যাত করে কাঁদতে লাগলেন। আমি পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সময় গুনছিলাম। দেখলাম, বেশিক্ষণ কাঁদলে ঘরে পানি জমে যেতে পারে। তাকে আর না চ্যাতানোই উত্তম।
.
দ্রুত ফ্রেশ হয়ে এসে ফোন হাতে নিয়েই দিলাম শাশুড়িকে ফোন। ওপাশ থেকে শাশুড়ি মা রিসিভ করলে সালাম দিলাম। কেমন আছেন জিজ্ঞাসিতেই তিনি বললেন, "বাবা ভালো নেই। ডাক্তার বেড রেস্টে থাকতে বলেছে এক সপ্তাহ। কোমড়ের ব্যথাটা বেড়েছে খুব। সংসারে এতো কাজ! রান্নাবান্না নিয়ে ঝামেলায় আছি। তুমি দ্রুত পাত্রী দেখে বিয়ে ঠিক করো। আমি আর পারছি না।"

বললাম, "আম্মা, পাত্রী না হয় দেখা যাবে। সেইটা সমস্যা না। সমস্যার ভেতর প্রবলেম হইলো শ্বশুর যদি এই বয়সে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তাহলে সমাজে আমরা মুখ দেখাবো কেমনে?"
.
শুনেই অপাশ থেকে শাশুড়ি চেঁচিয়ে বললেন, "শয়তান ছেলে, আমি কি তোমার শ্বশুরের বিয়ের কথা বলছি?"

আমি মনে-মনে ভাবলাম তবে কি শাশুড়ি আমার নিজের জন্য পাত্রী খুঁজতে বলছে! এমন শাশুড়িও হয়! মাবুদ। বউ পাশেই দাঁড়িয়ে সব শুনছিলেন। দ্রুত ফোনটা তার হাতে দিয়ে বললাম, "গুনীজনদের কথা ফেলতে নেই। তোমার মা আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে বলছে। আর তোমাকে তার বাড়ীতে পাঠিয়ে দিতে বলছে রান্নাবান্না করার জন্য। তুমিই সিদ্ধান্ত নাও এখন আমার কি করা উচিৎ। আমি তার মুখের উপর না করতে পারবো না। হাজার হোক শাশুড়ি বলে কথা।
.
রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গিন্নী ফোন হাতে নিয়েই লাউড স্পিকার অন করে আমার শাশুড়ি আম্মা আর তার নিজের আপন আম্মাকে বললেন, "মা, কোমড়ের সাথে-সাথে কি তোমার মাথাটাও গেছে? তুমি তোমার জামাইকে আবার বিয়ে দিতে চাচ্ছো?"
.
শাশুড়ি এবার রাগে অতিষ্ঠ হয়ে বললেন, "তোরা কী আমারে পাগল পাইছিস? আমি তোর ভাইয়ের জন্য মেয়ে দেখতে বলছি। সে দুইমাস পর সিংগাপুর থেকে ফিরলে বিয়ে দেবো। তাই তোদের পাত্রী দেখে রাখতে বলেছি। আর তোরা এসব কী শুরু করলি, বলতো?"
.
শুনেই আমি বিদ্যুৎ গতিতে ঘর থেকে বেড়িয়ে রাস্তার পথ ধরলাম। কারণ পরিস্থিতি এখান যা দাঁড়িয়েছে ঘরে থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পরিবেনা, নিশ্চিত। পেছন দিক থেকে গিন্নীর অম্লমধুর গলার জ্বালাময়ী ওয়াজ শুনতে পাচ্ছি কিছুটা। সে দিকে ফিরে তাকানো সাহস হলো না আমার। তবে একটা বিষয় আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকলো না। শাশুড়ি আম্মাকে ডাক্তার বেড রেস্টে থাকতে বলেছে এখন। দুই মাস পর ছেলের বিয়ে দিয়ে সে এখন কিভাবে বেড রেস্টে থাকবে বলেন তো? অদ্ভুত না?
.
আসলেই অদ্ভুত। সে যাক'গে তা নিয়ে আমি ভাবছি না। আমি এখন ভাবছি আজ রাতটা কোনো বন্ধুর বাসায় কাটানো যায় কিনা। বাসায় যে কাণ্ড বাঁধিয়ে এসেছি তাতে আজকের রাতে বাসায় ফেরাটা আমার জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্তই হবে। ঘাড়ের মাথাটা যেহেতু আমার নিজের। তাই তাকে স্বস্থানে রাখার দায়িত্বটাও আমাকেই নিতে হবে।

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন