মুক্তিযোদ্ধারা যেই গানটি গেয়েছেন, সেটাই জাতীয় সংগীত


ছবিঃ ইন্টারনেট

.

১৯৭১ সালে, যুদ্ধরত অবস্হায় জাতির যোদ্ধারা ও জাতি যেই গানটিকে তাঁদের ইমোশানের অংশ হিসেবে গেয়েছেন, সেটাই আমাদের জাতীয় সংগীত।

যুদ্ধের মাঝে, পতাকা উত্তোলেনের সময়, মুক্তিযোদ্ধারা যেই গানটি গেয়েছেন, সেটাই আমাদের জাতীয় সংগীত, সেটাই 'সোনার বাংলা'; এর বাইরে যারা অন্য গানকে জাতীয় সংগীত হিসেবে চাচ্ছে, তাদেরকে গড়ে ৫ বেত করে দেয়ার দরকার, এটাই বড় গণতন্ত্র। 

১ নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টারে সকালে নাস্তার আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হতো, জাতীয় সংগীত গাওয়া হতো, পি,টি ও প্যারেড হতো; এসব ছিল হেডকোয়ার্টারে অবস্হানরত মুক্তিযোদ্ধাদের দৈনিক রুটিনের অংশ। 'সোনার বাংলা'কে কখন কিভাবে জাতীয় সংগীত হিসেবে নেয়া হয়েছে, যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের কেহ জানতেন বলে আমার মনে হয় না; তবে, সবাই প্রচন্ড ইমোশান নিয়ে গানটি গাইতেন। সেই সময় যারা হরিণায় ছিলেন, তাঁদের শতকরা ৯৫% গ্রামের তরুণ ও ছাত্র ছিলেন; ছাত্ররা পরীক্ষায় ১০ লাইন কবিতা মুখস্হ লিখতে গিয়া ঘর্মাক্ত হয়ে গেলেও 'সোনার বাংলা' অনেকেরই মুখস্হ ছিলো, দেখলাম।

গানটি নিশ্চয় ১৯৭১ সালে, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্হায়ী সরকার জাতীয় সংগীত হিসেবে নিয়েছেন; এই ব্যাপারে কারো কোন প্রশ্ন ছিলো না; গ্রামের তরুণরা নিশ্চয় পল্লীগিতি, ভাটিয়ালী গান, গুণাই বিবির গান, রূপবান ও রহিম বাদশা'র গানের বাইরে তেমন কোন গান জানতেন না; তাঁরা পাকিস্তানের জাতীয় সংগীতও মুখস্হ জানতেন না; কিন্তু খুবই স্বল্প সময়ের মাঝেই সবাই 'আমার সোনার বাংলা'কে রপ্ত করে নেন; কারণ, গানটা ছিলো প্রানের গান। যুদ্ধে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সিদ্ধান্তই সঠিক ও শেষ সিদ্ধান্ত।

ত্রিপুরার ভেতরে, ১ নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার, হরিণার আশেপাশ কোথায়ও 'যেডফোর্স'এর একটা হাইড-আউট(হেডকোয়ার্টার) ছিলো; ষ্টুডেন্ট প্লাটুনকে কখনো ওখানে নেয়া হয়নি; চাঁদগাজী (চাঁনগাজী) যু্দ্ধের পর একরাতে ষ্টুডেন্ট প্লাটুনকে সেখানে নেয়া হয়; রাতটা ছিল ভয়ংকর খারাপ: পাহাড়িয়া বৃষ্টি, মশা, পিপড়ার মাঝে থাকা। সকালে, ক্যাপ্টেন হামিদ ষ্টুডেন্ট প্লাটুনকে জাতীয় সংগীত গেয়ে পতাকা তুলতে অর্ডার দেন। অনেকেই গানটি ভাসা ভাসা জানতেন; কিন্তু লীড-গায়ক কে হবেন?

চট্টগ্রামের নিজামপুর কলেজের ৩য় বর্ষের ছাত্র শফিউল আলম নিজের থেকে সামনে গিয়ে গানটা তুললেন; সবাই অংশ নিলেন: ইপিআর, বেংগল রেজিমেন্টের সবাই গলা মিলালেন। পরবর্তী কয়েক দিনের ভেতর শফিউল আলমে'র কাছ থেকে গানটি সবাই শিখলেন। এরপর, শধু পতাকা তোলার সময় নয়, অবসরেও সবাই গলা মিলায়ে গানটি গাইতেন; বিশেষ করে, বিকেলে চা খাওয়ার সময়, ইপিআর'দের অনুরোধে শফিউল আলম গানটি প্রায় প্রতিদিনই গাইতেন।

আজকে যারা 'সোনার বাংলা'র বাইরে অন্য জাতীয় সংগীতের কথা বলছে, তারা মুক্তিযু্দ্ধের অংশ নয়; তারা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংগালীদের গৌরবের দিনগুলোকে হেয় করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে; ওদেরকে গড়ে ৫ বেত করে দেয়াই হবে ওদের সঠিক গণতান্ত্রিক অধিকার।
#collected; somewhereinblog.net