জীবনে অনেক ঘটনা শুনেছেন! কিন্তু এই ঘটনা যারাই পড়ে না কেঁদে পারেনা! যতবার পড়েছি ততবার কেঁদেছি

১৯২০ সালে ৬০ বছর বয়সে শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান(রহ) মৃত্যুবরণ করেন।
তার মরদেহ হাকিম আজমল সাহেবের

জীবনে অনেক ঘটনা শুনেছেন! কিন্তু এই ঘটনা যারাই পড়ে না কেঁদে পারেনা! যতবার পড়েছি ততবার কেঁদেছি ১৯২০ সালে ৬০ বছর বয়সে শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান(রহ) মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ হাকিম আজমল সাহেবের আবাসস্থলে নিয়ে আসা হয়। হাকিম আজমল সাহেব ছিলেন তখনকার একজন প্রসিদ্ধ হাকিম এবং তিনি শাইখুল হিন্দের ভক্ত ছিলেন। তার মরদেহ দিল্লী থেকে দেওবন্দে নিয়ে আসার পর গোসল দেওয়ার জন্য যখন তার কোমরের কাপড় সরিয়ে ফেলা হলো,তখন দেখা গেল সেখানে কোন মাংস কিংবা চর্বি নেই। এ দৃশ্য দেখে লোকেরা কান্নাকাটি শুরু করলো । মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী(রহ) সে সময়ে দারুল উলুম কলকাতায় শিক্ষকতা করতেন। তিনি যখন ঘটনাস্থলে আসলেন তখন লোকজন তাকে তাঁর উস্তাদের অবস্থা জানালেন। তা শ্রবণ করার পর মাওলানা হোসাইন আহমাদ মাদানী(রহ) ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন এবং বলেছিলেন,"শাইখুল হিন্দ আমাকে এ ব্যাপারটা কারো কাছে প্রকাশ করতে বারণ করেছিলেন। মাল্টার জেলে থাকা অবস্থায় ব্রিটিশরা আমার উস্তাদকে একাকী একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যেত। সেখানে তারা একটি রড যা গরম করে লাল করে রাখা হতো,তা তার কোমরে লাগিয়ে বলতো, 'মাহমুদুল হাসান! ব্রিটিশদের পক্ষে একটি ফতোয়া দিয়ে দাও।' এ নির্মম অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে উনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন। কিন্তু যখনই জ্ঞান ফিরে পেতেন,তখন তিনি ঈমান্দীপ্ত কণ্ঠে বলতেন, "ব্রিটিশরা শোন ! আমি হলাম বিলাল(রা) এর উত্তরসূরি, আমার শরীরের চামড়া গলে পড়ে যেতে পারে ,কিন্তু আমি কখনোই ব্রিটিশদের পক্ষে ফতোয়া দেব না।" এই হল উলামায়ে দেওবন্দ, তাদের ত্যাগ ও কুরবানীর বিনিময়ে উপমহাদেশে ইসলাম ও আমন এসেছে। না হয় বৃটিশদের গোলামী ছাড়া বিকল্প ছিলনা। বর্তমান উলামাদের মাঝে আছে কি তাদের আদর্শ,দুধ খাওয়া মজনু বিপুল পাওয়া যায়।দেওবন্দীরা যুগের সাথে তাল মিলাতো না,আজ আমরা কোথায়? তাদের মতাদর্শী হতে হলে তাদের আদর্শে আদর্শিত হতে হবে। মুখে মুখে দেওবন্দী বললে দেওবন্দী হওয়া যায় না, আল্লাহ সকল উলামায়ে দেওবন্দ হজরাত কে জান্নাতের আলা মাকাম আতা করুন।