নীল আর নীলকষ্ট নয়:
"ইতিহাস বলে বাঙালিদের প্রধান ফসলই ছিল ধান আর পাট। নীল চাষ তারা কখনও করেনি, করার দরকারও পড়েনি। কারণ এর ব্যবহারিক প্রয়োজন তাদের খুব বেশি ছিল না। কিন্তু সে সময় পৃথিবীর অন্যত্র নীলের চাহিদা ছিল ব্যাপক। বর্তমানে বৈজ্ঞানিক প্রণালিতে নীল রঙ প্রস্তুত হলেও এটি আবিষ্কারের আগে গাছ থেকে নীল সংগ্রহ করা হতো। ভারতবর্ষের মাটি উর্বর থাকায় ১৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে নীল চাষ করাত। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের পর ভারতের শাসন ক্ষমতা ইংরেজরা গ্রহণ করলে ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে এ কোম্পানি সবাইকে নীল চাষ করার এলান জারি করে। এ এলান জারির অধিকার পেয়েও ভারতীয়রা নীল চাষে তেমন আগ্রহী হয়নি। সে সময় শ্বেতাঙ্গ ইংরেজ ব্যবসায়ীরা অনেকে বঙ্গদেশ ও বিহারের নীল চাষিদের দিয়ে জোর করে নীল চাষ করিয়ে বিদেশে রফতানি করত। এতে লাভ ছিল ব্যাপক। কালক্রমে নীল ব্যবসায়ী ইংরেজরা গ্রামে কুঠি স্থাপন করে নীল চাষ তদারকি করত। সে কুঠিই নীলকুঠি নামে এখনও বাংলার আনাচে কানাচে কষ্টস্মৃতির মিনার হিসেবে ইতিহাসের নীরব কান্না বহন করছে। নীল চাষ করে কোথাও কোথাও তারা এত অর্থ ও প্রতিপত্তি সম্পন্ন হয়ে ওঠে যে, স্থানীয় জমিদারদের জমিদারি পর্যন্ত তারা কিনে নেয়। এরপর অনিচ্ছুক চাষিদের নীল চাষে বাধ্য করে, ভালো উর্বর জমিতে নীল চাষ করার জন্য জবরদস্তি করে খুঁটি পুঁতে আসে, এমন কি নীল সংগ্রহ ও কেনার সময় সব অর্থ পরিশোধও করত না। উপরন্তু তারা তাদের পেয়াদা ও লাঠিয়ালদের দিয়ে দৈহিক নির্মম নির্যাতন করা হতো গরিব চাষিদের। এ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ই নীলকর নামে পরিচিত, যাদের অত্যাচারে বহু বিত্তশালী গৃহস্থ গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে, অনেক স্থানীয় যুবতী তাদের সম্ভ্রম রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, বহু প্রতিবাদী মানুষ জীবন হারিয়েছ"
চলবে...
(কৃষি তথ্য সার্ভিস)
Anisur Rahman
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?