আক্কেল মেম্বারের গাছের ডাব গুলোকে নিচ থেকে রসগোল্লার মতো লাগে। এই ডাব না খাওয়া পর্যন্ত ঠিকমতো শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছিনা। মনে হচ্ছে অক্সিজেন ডাব গাছে আটকে আছে।
ডাব চুরি আবুল ভাইকে ছাড়া হয়না। আজকে রাতে ডাব নামানোর কথা, সন্ধ্যা থেকেই সে নিখোঁজ। ফোন দিলে ফোন কেটে দেয়। প্রেমিকার বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ায় ডাব চুরি করে পার্টি হওয়ার কথা। বিরহে লোকটা কোথায় কিভাবে পরে আছে কে জানে।
আমরা যে কয়জন আছি খুব ভালো খাইতে পারি, চুরির মাল নিয়ে বড়জোর দৌড়াতে পারি। কিন্তু চুরি করতে পারিনা।
ডাব খাইতে না পারার আফসোসে চোখে ঘুম লেগে আসছে তখনি মিনমিনিয়ে কে যেন ডাকছে। রাতের বেলা তিনবার পর্যন্ত ডাকের সাড়া দিতে নেই। দাদী বলতো তিনবার পর্যন্ত শয়তান ডাকে। ডেকে বাহিরে নিয়ে ভুলিয়ে-বালিয়ে ঘাড় মটকে দেয়।
দুই বন্ধু ভোর রাতে মাছ ধরার প্ল্যান করেছিলো। কথা ছিলো এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে মাছ ধরবে। পরের দিন সকালে বিলের মধ্যে এক বন্ধুর লাশ পাওয়া যায়। কারন যে বন্ধু ডাকার কথা ছিলো সে বন্ধু ঘুম থেকে উঠতেই পারেনি, ডেকে নিয়ে গেছে শয়তান। নিয়ে মেরে ফেলেছে। এমন ভয়ঙ্কর গল্প দাদী ছোটবেলায় শুনাতো। ভয়ে হিসু করতে বের হতাম না রাতে। গল্প শুনার দুই তিন দিন পর্যন্ত দিনের বেলাতেও ভয় পেতাম। অবশ্য পরে দেখি পুরো সারা বাংলাদেশের দাদী-নানীরা তার নাতি-পুতিদের এই একিই গল্প শুনিয়ে গেছে।
দুইবারের ডাকে সাড়া না দিতেই আবুল ভাইয়ের ফোন পেলাম।
- ভাই দরজা খোল।
দরজা খুলে দেখি মেয়ে নিয়ে আবুল ভাই দাঁড়িয়ে আছে। এই মেয়ে কে?
'এইডা মেয়ে না। এইডা তর ভাবী। ভাই আমি বিয়া কইরা লাইছি। এহন বাইত বউ লইয়া গেলে আম্মা বাইর কইরা দিবো। রাইতটা তর এনে থাকমু, সকালে আম্মারে বুঝাইয়া বউ নিয়া যামু!'
কথা শুনে আবুল ভাইকে শয়তান মনে হচ্ছে। বললাম পুরো কথাটা মোট চারবার বলো। না হয় বুঝতে পারছিনা তুমি শয়তান নাকি আবুল ভাই।
কোন কথা না বলে আবুল ভাই ধপাস করে বউয়ের হাত ধরে ঘরে ঢুকে গেলো।
আম্মা ঘুমিয়ে আছে। চারপাশ নিরব। আবুল ভাইকে নিয়ে কি করা যায় সেটাই বুঝতে পারছিনা। হুটহাট মানুষটা কি জম নিয়ে আসলো!
মেয়েকে দেখে মনে হচ্ছে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে আসছে। তার মানে এই মেয়ের সাথেই সে লাইন মারতো। সেটা বিষয় না, বিষয় হচ্ছে আমি ডাব গুলোর কথা ভুলতে পারছিনা।
বললাম আবুল ভাই, আপনি বাসর করবেন আর আমি ডাব বিরহে ভুগবো তা হবেনা। চলেন আগে ডাব, তারপর সবকিছু। নতুন বউ ঘরে তালা দিয়ে দাঁ রসি নিয়ে বের হয়ে গেলাম। আবুলকে ভাইকে দেখলাম বউয়ের কানেকানে বলে আসলো ডরাইয়োনা, আমি আইসা যামু জ্বলদি। কানেকানে বললেও আমি শুনলাম।
'তুই ঢাহাত্তে (ঢাকা থেকে) আইলে বেশী জ্বালাছ'
'জ্বালানোর কি আছে? চুরির জিনিসের মতো মজা কিছু আছে কও'?
আবুল ভাই মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো 'নাই', জোৎস্নার আলোয় স্পষ্ট দেখলাম সেটা। উজ্জ্বল, বাবু, সুমনদের ডেকে নিলাম। মিশন আক্কেল মিয়ার গাছের ডাব। আজ অনেক বছর পর! এই পাঁচজনে যে কত চুরি করেছি জীবনে তার হিসেব নাই। যখন গ্রামে ছিলাম - এমন কোন ফল গাছ নাই যেখান থেকে চুরি করিনি, এমন কোন পুকুর নেই যেখান থেকে মাছ নেইনি। মুরগী তো চুরি করেছি শতশত। মানুষ চাইলে যে দিতোনা তা না, তবে চুরির জিনিষের মজাই আলাদা। বর্ষাকালে বিলে অন্যগ্রাম থেকে হাঁস আসতো। নৌকা করে হাঁস ধরে নিয়ে এসে নিজেরাই রান্না করে খেয়ে ফেলতাম। সবখানে লিড দিতো আবুল ভাই। আহা শৈশব! স্মৃতি গুলো চোখে চকচক করে উঠে এখনো!
কাঠবিড়ালির মতো এক ছড়া ডাব চোখের পলকে নামিয়ে ফেললো আবুল ভাই। ডাব দিয়ে বললো তরা খা, আমি যাইগা।
বললাম- এনার্জীর দরকার আছে। দুইটা ডাব খাইয়া যান।
কথা খারাপ কছ নাই। হারাদিন খাইনাই কিছু।
বিস্তর ক্ষেতের মাঝখানে ভরা জোৎস্নায় ডাব খেয়ে যাচ্ছি পাঁচজন। ডাবের পানি খেয়ে মাতাল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আবুল ভাই যে ঘরে বউ রেখে আসছে সেটা বোধহয় ভুলে গেছে। ৫ টা খেয়ে ৬টা'র দিকে আগাচ্ছে। একটু পরপর বলতেছে - 'আহাহাহা! আগের দিনের কথা মনে পড়তেছেরে!'
হুট করে চোরের দল বলে কয়েকটা লোক আমাদের উপর ঝাপিঁয়ে পড়লো। বেশী খেয়ে ফেলায় আবুল ভাই নড়তে পারেনি। আমরা দৌড় দিলাম! আক্কেল মেম্বার তার দলবল নিয়ে আবুল ভাইকে ধরে ফেললো। ডাব চুরির দায়ে আবুল ভাইয়ের বাসর রাত মিস হবে তা মানতে পারছিনা। তাছাড়া ওনাকে রেখে যাওয়াটাও নীতিতে বাধে। পিছন থেকে ডাক দিয়ে বললাম মেম্বার সাহেব গাছে এত ডাব, ডাব তো আমরা খাইতেই পারি। তাছাড়া সামনের বার তো নির্বাচন করবেন নাকি?
মেম্বার উত্তর দিলো - ধুর মিয়া তুমি আছো ডাব নিয়া। আবুইল্লার খোঁজ লাগাইছি দুপুর থাইকা। ও আমার মামা শ্বশুড়ের মেয়ে ভাগাইয়া নিয়ে আসছে। ওর খবর আছে!
ঘটনা সুবিধার না। এই বিষয়ে ওকালতি করলে ঝামেলা উলটো নিজের ঘাড়ে চাপবে। কিন্তু কথা হচ্ছে ওই মেয়ে তো আমার ঘরে!
বাড়ি যেতে হবে।
বাড়ি এসে দেখি মানুষজন জমে অবস্থা খারাপ। আমার ঘর থেকে নাকি মেয়ে মানুষের কান্নার আওয়াজ আসতেছিলো। লোকজন এসে আম্মাকে উঠালো, আম্মা তালা খুলে দেখে বউ সাজা মেয়ে। রটে গেলো সজিব মেয়ে ভাগাইয়া নিয়ে আসছে! আম্মা নাকি অলরেডি দুই তিনবার ফিট খেয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যে আরেকবার খাবে।
নাহ আবুল ভাইকে ছাড়া হবেনা। বউ আনছে আবুল, নাম হইছে আমার। দৌড়ে মেম্বার বাড়ি গিয়ে দেখি আবুল ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। মেম্বারকে বললাম আপনার মামা শ্বশুড়ের মেয়ে আমার বাড়িতে! কথা শুনে মেম্বার আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। কিভাবে কি বুঝাই?
এত বুঝতে হবেনা। অবস্থা বেগতিক। বাড়িতে গেলে মাইরধর করতে পারে। তারচেয়ে বড় কথা ওই মেয়ের সাথে আসলেই বিয়ে দিয়ে দিতে পারে! উপায় না পেয়ে পুলিশের দিকে হাত বাড়িয়ে বললাম- আমাকেও নিয়ে যান, আমিও বরং থানাতেই চলে যাই!
★★
#collected
kim kim
এই লিংকে একাউন্ট করুন...
https://bmrealsates.com/ 😍
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Nabil_Afridi_317
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?