সুফিবাদ -Part 6
ইতিহাস
উৎস
কার্ল ডব্লিউ. আর্নস্ট এর মতে, সুফিবাদের প্রাচীনতম ব্যক্তিত্ব স্বয়ং মুহাম্মদ (সা.) এবং তার সাহাবীগণ। সুফি তরিকাগুলোর ভিত্তি হল "বায়াত" (بَيْعَة বাইআত, مُبَايَعَة মুবাই'আত "অঙ্গীকার, চুক্তি, শপথনামা" যে শপথ সাহাবারা মুহাম্মদ (সা.) এর কাছে করতেন। মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি মাধ্যমে সাহাবাগণ আল্লাহর কাজে নিজেদের নিয়োগ করতেন।

নিশ্চয় যারা আপনার (মুহাম্মাদ-এর কাছে বাই’আত করে তারা তো আল্লাহরই হাতে বাই’আত করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর। তারপর যে তা ভঙ্গ করে, তা ভঙ্গ করার পরিণাম বর্তাবে তারই উপর এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তবে তিনি অবশ্যই তাকে মহাপুরস্কার দেন। — [কুরআনের অনুবাদ, ৪৮:১০]

সুফিগণ বিশ্বাস করে যে, কোন বৈধ সুফি শাইখের (পীর) নিকট বাইয়াত বা শপথ নেওয়ার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকট আনুগত্যের শপথ করে; ফলে, প্রার্থী ও মুহাম্মদ (সা.)-এর মধ্যে সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। মুহাম্মাদ এর মাধ্যমে সুফিগণ আল্লাহ সম্পর্কে জানে, আল্লাহকে বোঝে এবং আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করে।[৩৩] আলী হলেন সাহাবাদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তি যিনি সরাসরি মুহাম্মাদ-এর নিকট আনুগত্যের শপথ (বায়াত) পাঠ করেন, এবং সুফিগণ আলীর মাধ্যমেই এই শপথকে বজায় রাখেন, যেন মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও তার সাথে সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়। এমন একটি ধারণা হাদিস থেকে বোঝা যায়, যাকে সুফিগণ সহীহ বলে মনে করেন, যেখানে মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা"।আলি হুজ্যিরির ন্যায় প্রসিদ্ধ সুফিগণ আলীকে তাসাউফের অনেক উচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী বলে মনে করেন। উপরন্তু, জুনায়েদ আল বোগদাদী আলীকে তাসাউফের রীতিরেওয়াজের শাইখ বলে গণ্য করেছেন।

ইতিহাসবেত্তা জোনাথন এ.সি. ব্রাউন লিখেছেন, মুহাম্মাদ এর জীবদ্দশায়, কিছু সাহাবা অন্যান্য সাহাবার চেয়ে "প্রবল ভক্তি, পুন্যময় নিরাসক্তি ও আল্লাহর রহস্যে"র প্রতি অধিক ঝোঁকবিশিষ্ট ছিলেন, এমনকি ইসলামে যা বলা হয়েছে তারচেয়েও বেশি, উদাহরণস্বরূপ আবু যর গিফারী। হাসান বসরী নামক একজন তাবেঈকে "অন্তর-বিশুদ্ধকরণ-বিজ্ঞানে"র "স্থপতি" বলে বিবেচনা করা হয়।

সুফিবাদের অনুশীলনকারীরা মনে করেন যে সুফিবাদের বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যকরভাবে এটি ইসলামের অভ্যন্তরীণকরণের চেয়ে বেশি কিছু ছিলনা। এক দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি সরাসরি কুরআন থেকে এসেছে, যা ক্রমাগতভাবে তেলোয়াত, ধ্যান ও অভিজ্ঞতা লাভ করার মাধ্যমে সুফিবাদের উত্স এবং তার বিকাশে লাভ করেছে। অন্যান্য অনুশীলনকারীরা মনে করেন, সুফিবাদ হলো মুহাম্মদ (সা.) এর দেখানো পথে অনুকরণের মাধ্যম, যার মাধ্যমে পরমাত্মার সাথে জীবাত্মার সংযোগ শক্তিশালী হয়।

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন