কিছুদিন আগে বশেমুরবিপ্রবির ছাত্র নোমানের আত্নহত্যা,আজ এক পুলিশ সদস্যের। বাকী যারা আত্নহত্যা করা নিয়ে দিধা-দ্বন্দ্বে আছেন তাদের জন্য।
(৪ নম্বর অংশটা অন্তত পড়তে পারেন)
(চার)
"জৈববিবর্তনের প্রবক্তা চার্লস ডারউইনের বিবর্তনতত্ত্বের মূলকথা ছিল দূর্বল প্রজাতির প্রাণিরা পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়,যোগ্যরাই টিকে থাকে।
প্রতিকূলতারর মাঝে টিকে থাকা,নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।কারো এই টিকে থাকাটা কারো দান নয়,নিজের যোগ্যতা। নৃবিজ্ঞানীরা এটাকে বলেন সার্ভাইভাল অব দ্যা ফিটেস্ট। আপনি টিকে আছেন বলেই,মাঝরাতে ভাঙা বলহীন হাতেও ব্যাথাটা যে হয়, সেটা অনুভব করছেন। কিন্ত অস্তিত্ব না থাকলে?
আমরা মানুষের ক্ষমতা,দাপট,শিক্ষা দীক্ষা,চিকিৎসা ইত্যাদি তার অস্তিত্ব থাকা সাপেক্ষ চিন্তা করি কিন্ত যে বেচে নেই বা আজ মারা গেল তাকে কিন্ত সিলেবাসের বাইরে রাখছি আজ থেকেই।এই যে এত রাজনীতি,সমাজনীতি, প্রিয়ার ভালবাসা,আজ থেকেই সব বন্ধ।এত এত নাম-ধাম,খ্যাতি-কুখ্যাতি সব শুধুই সাময়িক চিন্তার স্মৃতি নামক যন্ত্রের খোরাক মাত্র। আপনার প্রিয় মানুষটিও হয়তো সংসার ধর্মে ডুবে আছে স্বামীর ভালবাসার প্রিয় মানুষ হয়ে অথবা স্ত্রীর দায়িত্বশীল আদর্শ স্বামী হয়ে। অথচ আপনি হয়তো তার জন্য ইদুর মারার ঔষধ খেয়ে দিব্যি পৃথিবীকে বিষাক্ত আখ্যা দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন/জানাতে চাইছেন।
মজার বিষয় হলো,যে পর্যন্ত আপনি বেচে আছেন সে পর্যন্তই পৃথিবীর সব কিছু করার/হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন আপনি।হাজার উদাহরণ পাবেন, যারা হকার,মুচি থেকে আমেরিকা, ভারতের মত দেশের প্রধান হয়েছেন আরো অনেক কিছু।সাধারণ কোম্পানিতে চাকুরী না পেয়ে বেকারত্বের কষ্টে বিষের বোতল মুখে নিয়েও যে ছেলেটা ছিপি না খুলে ঘুরে দাড়িয়েছে সেই ছেলেটার হয়তো সেই কোম্পানির থেকে বড় কোম্পানির মালিক হতে দশ বছরও সময় লাগেনি। যে ছেলেটা কে একদিন সিনেমা দেখার সামর্থ না থাকার অভিযোগে বান্ধবী ছেড়ে গিয়েছিল, সেই একদিন পুরো সিনেমা হল বুক করেছিল তার বান্ধবীর জন্য।ধর্ষণ বা এসিডে মুখ ঝলসে যে নারী সমাজ ও পরিবারের বোজা হয়ে নিজেকে শেষ করতে নদীতে ঝাপ বা গলার দড়ি খুলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, খোজ নিয়ে দেখুন তার সেলাই মেশিনের আয়ে দিব্যি ছয় সদস্যের সংসার চলছে,ছেলে পরিত্যক্ত বৃদ্ধ মা-বাবার আহার জোগাচ্ছে।গড়ে তুলেছে শত সম্ভ্রম হীন নারীদের নিয়ে উদ্যোক্তা সমিতি। অস্তিত্ব টা ছিল বলে,অক্ষমের মত পালিয়ে আত্নহত্যা করলে হয়তো এ ঘটনা জানান সুযোগ পেতাম না আমরা।এমনই অনেক মেয়ের গল্প আমরা জানি যারা যৌতুকের টাকা দিতে না পেরে স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে ঘুরে দাড়িয়ে আজ সরকারি আমলা হয়েছেন। যে ব্যক্তিকে ডিস্কভারি চ্যানেলে পৃথিবীর সব শাপ,ব্যাঙ খেয়ে পরিস্কার করতে দেখছেন,পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসতে দেখেন সেউ বিয়ার গ্রিল ও কিন্তু প্রথম চাকুরী জীবনের ট্রেনিং করতে গিয়ে পাজরের হাড় ভাঙার কারনে ডাক্তার তাকে আজীবন হাটতে পারবেন না বলে প্রতিবন্ধী হিসেবেই রায় দিয়ে ছিলেন,আর সে ব্যক্তিই মনের জুড়ে ছয়মাস পর এভারেস্ট জয় করে প্রমাণ করেছেন খারাপ সময় টা দাত কামড়ে পাড় হতে দিতে হয়।যে ভালবাসার মানুষের জন্য মরতে যাচ্ছেন,আগামী দুই বছর পর হয়তো নিজেই তাকে ছেড়ে যাবেন।দশ বছর প্রেম করে দুই মাস সংসার করতে পারে নি এমন উদাহরণও আমাদের চোখের সামনে বহু দেখা যায়।প্রিয় ব্যক্তির পরকীয়ার কথা জানলে মান-সম্মান যাবে বলে সমাজকে ভয় পেয়ে মনের কষ্টে আত্নহত্যা করতে যাচ্ছেন, দুদিন টাকার অভাবে না খেয়ে থাকুন সমাজ তো দূরে থাক,আত্নীয় স্বজনও খুঁজে পাবেন না পাশে থেকে এক গ্লাস পানি উঠিয়ে দেবে হাতে।পৃথিবীতে ব্যর্থদের ইতিহাস কেউ লিখে রাখেনা,আর এ জন্য যারা ঝরে গেল,তাদের নাম তো দূরের কথা, সং্খ্যাও কেউ মনে রাখেনি,যোগ্যতা দিয়ে টিকে থাকুন।কঠিন সময় টা দাত কামড়ে পড়ে থাকুন,সময় পাড় হতে দিন,ভোরের আলোর জন্য অপেক্ষা করুন,সূর্য উঠবেই।কাউকে ভুল বুঝতে পাড়ার সময় দিন, ফিরে আসার সুযোগ দিন, না এলে বিকল্প খুজুন,আপনি ভাববেন না এই ঘরটায় আপনি না থাকলে ঘরটা সারাজীবন ফাকা পড়ে থাকবে বরং আপনার শূণ্যতা পূরনের জন্য আরো অনেকেই মুখিয়ে আছে।
এমন বহু গল্প আপনার চারিদিকে পাবেন, স্বামী স্ত্রী দুজনেই প্র‍থম সারির বিসিএস ক্যাডার কেউ কারো জন্য সময় দেন না বা দিতে পারেন না।অথবা প্রতিদিন দু:খের অনলে সংসার নামক কাঙখিত জীবনের স্রোত হারিয়ে মাদকাসক্ত অথবা সমাজের চোখে ভাল সেজে নিত্য নিজেকে পোড়াচ্ছেন। এমন বহু হাইপ্রফেশনাল ফেমিলির দিকে তাকান।নিজের ছোট বা কাঙখিত চাকুরী না পেয়েও অথবা সামান্য দোকান ব্যবসা করেও যে সুখে আছেন তা উপলব্ধি করতে পারবেন।
যে মেয়ের/ছেলের বিয়ে হয়নি বলে অসস্তিতে ভোগছেন আপনার বন্ধুকেই দেখুন দুবার সংসার করতে গিয়েও হয়তো আপনার মত সিঙ্গল জীবন কাটিয়ে জীবন বোরিং বলে আত্ন তৃপ্তিতে আছে।
একটা কথা মনে রাখবেন,আপনার অনেক কিছুই দেখা হয়নি, শেখা হয়নি,জানা হয়নি।অন্তত নিজের জন্য না হলেও যে মা বাবা আপনাকে এতটুকু বুঝতে ভাবতে শিখিয়েছে,যার রক্ত চুষে আজ মানুষ নামের প্রাণী পরিচয় দিতে পারেন সেই গর্ভধারিনীর কথা ভাবুন। ভালবাসুন নিজেকে।জীবন যুদ্ধে কাউকে সাথে না পেলে রবি ঠাকুরের গানটা মনে করুন "যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে...."। যারা সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছেন তারা এবার সিদ্ধান্ত নিন আপনি কী করবেন।

#collected

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন