সকালে ঘুম থেকে উঠার পর আম্মা বলল, যা রেজাউলের দোকান থেকে হারপিক আর দুই হালি ডিম কিন্না নিয়া আয়।

কিছুক্ষণ ভদ্রমহিলার দিকে তাকায়া বললাম, আমি একজন স্বনামধন্য লেখক, আলাভোলা মানুষ! আমি যাবো বাজারে হারপিক আনতে? আমি? আমি? মানুষ শুনলে কি বলবে?

একজন লেখকের হাতে সাহিত্যের বদলে হারপিকের বোতল! এমন বাংলাদেশই কি আমরা চেয়েছিলাম? বলেন আপনি? চেয়েছিলাম এমন বাংলাদেশ?

-ঠিক আছে, তাইলে রামিমরে পাঠাই! এখান থেকে টাকা যা বাঁচে সে রাইখা দিবেনে।

একজন লেখকের হাতে সাহিত্যের বদলে হারপিকের বোতল এই উত্তেজনায় খেয়াল করি নাই আম্মার হাতে পাঁচশো টাকার নোট! হারপিকের বোতল আর দুই হালি ডিম কত টাকাই বা নিবে? এখান থেকে অন্তত দুইশো তিনশো টাকা বাঁচবে, সেই টাকা পকেটে ভরার লোভে বললাম,

ঠিক আছে, যে সাহিত্য লিখতে পারে সে ঘরের কাজও করতে পারে। মানুষ কি ভাববে না ভাববে তা নিয়ে চিন্তা করলে একজন লেখকের চলবে নাকি? একজন লেখক যেমন সমাজের তেমনেই সংসারের!

আম্মার থেকে টাকা নিয়ে এলাকার রেজাউলের দোকানে গিয়ে টাকা দিয়ে বললাম, হারপিক আর দুই হালি ডিম দেন। পলিথিনে হারপিক আর ডিম ভরে হাতে দিলেও টাকা ফেরত দেয় না দেখে বললাম, টাকা বাঁচে নাই? রেজাউল বললেন, জি খালাম্মার কাছে আগের টাকা পাওয়ানা ছিলো, আপনি আসার আগে ফোন দিয়ে বলে দিয়েছেন হারপিক, ডিম দিয়ে যা বাঁচে তা আগের টাকার সাথে এডজাস্ট করে রাখতে।

মাথাটা ভো ভো করছে, ডিম হারপিক নিয়ে রাস্তায় এলোমেলো ভাবে হাটছি আর ভাবছি, একজন লেখকের সাথে মানুষ এমন ব্যবহার করে? এভাবে ধোকা দেয় সমাজের একজন স্বনামধন্য লেখককে? যার কাঁধে সাহিত্যের দায়িত্ব তার হাতে হারপিক ধরিয়ে দেয় এভাবে ধোকা দিয়ে? এভাবে? এমন বাংলাদেশই কি আমরা চেয়েছিলাম? চেয়েছিলাম এমন বাংলাদেশ?
#colleted

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন