কিশোরী কন্যার মাথা ঘুরানো ও বমি হওয়া দেখে কোহিনূর বেগমের চোখ কপালে উঠে গেছে! এতোদিন মেয়েকে চোখে চোখে রেখে কী লাভ হলো ? যা আশঙ্কাই করেছিলেন তাই সত্যি হলো!
এই দৃশ্য দেখার আগে তার মৃত্যু হলো না কেন ?
কাঁদতে কাঁদতে তিনি মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
- বল, কে তোর এই সর্বনাশ করেছে?
বমি করতে করতে ক্লান্ত নোভা মাথা তুলে বললো,
- অনিকেত! মা, অনিকেত আমার এই সর্বনাশের জন্য দায়ী!
হায়রে যাকে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, সেই অনিকেতই তার সহজ সরল মেয়েটার এতো বড় সর্বনাশ করলো! এজন্যই বলে পর কখনো আপন হয়না!
কোহিনূর বেগমের একমাত্র মেয়ে নোভা। ফুটফুটে চঞ্চল মিষ্টি একটা মেয়ে। অনিকেত কীভাবে পারলো এমন একটা জঘন্য কাজ করতে?
কোহিনূর বেগম বুক চাপড়ে ঊর্ধ্ব গগনে দুহাত তুলে ফরিয়াদ করে বললেন,
- হে ঈশ্বর তুমি কেন আমাকে এতো বড় শাস্তি দিলে? কেন? কেন ? কেন ?
কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি নোভার কোনো ক্ষতি করতে চাইনি। যা হয়েছে আমার অজান্তেই হয়েছে। নোভা গতরাতে রাতে আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিল,
- ভাইয়া, মনটা ভীষন খারাপ একটু ভালো করে দাওনা প্লিজ।
- মিষ্টি জর্দা দিয়ে পান খা, মন ভালো হয়ে যাবে।
- সত্যি!
- হুম বহুল পরীক্ষিত এবং কার্যকর ঔষধ!
আমি ইতোপূর্বে অনেক মেয়েকেই এই ট্রিটমেন্ট দিয়েছি। কারও কোনো সমস্যা হয়নি।
কিন্তু বোকা নোভা মিষ্টি জর্দার বদলে "দুলাল পাতি জর্দা" দিয়ে পান খেয়েছে। অনভ্যস্তদের কাছে পাতিজর্দা আর গাঁজা টানা একই কথা।
পরিস্থিতি অবনতি হলে আমাকে নক করে বলে,
- ভাইয়া আমার অবস্থা খুবই খারাপ!
- কেন কী হয়েছে ?
- মাথা নিয়ে দাঁড়াতে পারছি না, ভন ভন করে ঘুরছে!
- অসুবিধা নাই, ফার্স্ট টাইম পান খেলে এমন হয়। এক চিমটি লবণ খা ঠিক হয়ে যাবে!
গাঁধিটা এক চিমটির বদলে এক টেবিল চামিচ লবণ খেয়েছে। এখন হর হর করে বমি করছে।
আর কলঙ্ক হয়েছে আমার! হায়রে নিঠুর দুনিয়া 😐
#collected
mahfuj manik
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Helal Ahmed
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Shahadat Hossain
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?