⏺⏺কোরআন পাঠরত অবস্থায় আযান দিলে কোরআন পাঠ চালিয়ে যাবে নাকি আযানের জবাব দিবে???
============================================

⏺⏺ জবাবঃ

কোরআন পাঠরত অবস্থায় আযান দিলে কোরআন পাঠ বন্ধ রেখে আযানের জবাব দিবে। কেননা একটা ইবাদত করার চেয়ে দুটো ইবাদত করা উত্তম।
কোরআন পাঠের সময় ,ব্যাপক ও অনির্ধারিত কিন্তু আযানের জবাব দেওয়ার সময় সুনির্দিষ্ট। কাজেই আযানের সময় কোরআন পাঠ অব্যাহত রাখলে আযানের জবাব দেওয়ার ইবাদত ছুটে যায়। কিন্তু আযানের সময়টুকু কোরআন পাঠ বন্ধ রাখলে দুটো ইবাদতই সঠিকভাবে পালন করা যায়।

#এ ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন,

جاء في "مجموع الفتاوى" (22 / 72): " إذَا سَمِعَ الْمُؤَذِّنَ يُؤَذِّنُ وَهُوَ فِي صَلَاةٍ فَإِنَّهُ يُتِمُّهَا ، وَلَا يَقُولُ مِثْلَ مَا يَقُولُ عِنْدَ جُمْهُورِ الْعُلَمَاءِ . وَأَمَّا إذَا كَانَ خَارِجَ الصَّلَاةِ فِي قِرَاءَةٍ أَوْ ذِكْرٍ أَوْ دُعَاءٍ ، فَإِنَّهُ يَقْطَعُ ذَلِكَ وَيَقُولُ مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ " انتهى.

"সালাতরত অবস্থায় কেউ আযান শুনলে তিনি সালাত পূর্ণ করবেন। অধিকাংশ বিদ্বানের মতে, মুয়াজ্জিন যা বলে, সেটা বলে আযানের জবাব দিবে না। কিন্তু যদি সালাতের বাইরে কোরআন তেলাওয়াত, যিকির, অথবা দোয়ায় থাকে তাহলে এগুলো স্থগিত করে মুয়াজ্জিন যা বলে তাই বলে আযানের জবাব দেবে।" (মাজমু ফাতাওয়া 22/72)

#ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

" ولو سمع المؤذن قطع القراءة وأجابه بمتابعته في ألفاظ الأذان والإقامة ثم يعود إلى قراءته وهذا متفق عليه عند أصحابنا "

কোরআন পাঠরত অবস্থায় আযান শুনতে পেলে কোরআন পাঠ বন্ধ রেখে আযান ও ইকামতের জবাব দেবে তারপর আবার কোরআন পাঠে লিপ্ত হবে। এ ব্যাপারে আমাদের সমস্ত বিদ্বান একমত। (আত তিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন /১২৬)

#শাইখ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাবে বলেন,

" السنة إذا كان يقرأ وسمع الأذان : أن يجيب المؤذن ؛ امتثالا لقول النبي صلى الله عليه وسلم : ( إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول ثم صلوا علي فإنه من صلى علي صلاة صلى الله عليه بها عشرا ...... ولأن إجابة المؤذن سنة تفوت إذا استمر في القراءة ، والقراءة لا تفوت ، وقتها واسع ، وفق الله الجميع "

"সুন্নাত হলো কোরআন পাঠরত ব্যক্তি যখন আযান শুনতে পাবে তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালামের নির্দেশ পালন করে মুয়াজ্জিনের আযানের জবাব দেওয়া। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন, 'যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তাই বলবে। তারপর তোমরা আমার ওপর দরূদ পেশ করবে।কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পেশ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার ওপর দশবার রহম করেন।
এর আরো কারণ হলো এমত অবস্থায় কোরআন পাঠ অব্যাহত রাখলে আযানের জবাব দেওয়ার সুন্নত ছুটে যায়।
পক্ষান্তরে আযানের জবাব দিলে কোরআন তেলাওয়াত ছুটে যায় না, কেননা এর সময় অত্যন্ত প্রশস্ত। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সকলকে তাওফীক দিন।" (মাজমূ ফাতাওয়া 10/ 358)

#এই ব্যাপারে শায়খ সালেহ আল উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

" قد يعرض للمفضول ما يجعله أفضل من الفاضل ، مثاله : قراءة القرآن من أفضل الذكر ، والقرآن أفضل الذكر ، فلو كان رجل يقرأ وسمع المؤذن يؤذن ، فهل الأفضل أن يستمر في قراءته أو أن يجيب المؤذن ؟
هنا نقول : إن الأفضل أن يجيب المؤذن ، وإن كان القرآن أفضل من الذكر ، لكن الذكر في مكانه أفضل من قراءة القرآن ؛ لأن قراءة القرآن غير مقيدة بوقت متى شئت فاقرأ ، لكن إجابة المؤذن مربوطة بسماع المؤذن "

"কোন কোন সময় তুলনামূলক কম ফজিলতপূর্ণ ইবাদতেরও এমন প্রেক্ষাপট আসে যেসময় অধিক মর্যাদাপূর্ণ আমলের চেয়েও সেটা বেশি মর্যাদাবান হয়ে যায়। এর উদাহরণ হল কোরআন পাঠ শ্রেষ্ঠ যিকির। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি কোরআন পাঠরত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পায় তাহলে তার কোরআন পাঠ অব্যাহত রাখাই কি উত্তম নাকি আযানের জবাব দেওয়া উত্তম?

এক্ষেত্রে আমরা বলব আযানের জবাব দেওয়া উওম, যদিও কোরআন পাঠ, যিকির অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। কিন্তু এক্ষেত্রে যিকির, কোরআন পাঠ অপেক্ষা উওম হবে । কেননা কোরআন পাঠ নির্দিষ্ট কোন সময়ের সাথে শর্তযুক্ত নয়, যে কোন সময় এটা পাঠ করা যায় অথচ আযানের জবাব দেওয়া আযান শ্রবণ করার সময় এর সাথে যুক্ত।" (লিক্বোআতুল বাবিল মাফতূহ)

والله أعلم بالصواب.

শাইখ মোঃ হযরত আলী

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন