উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটালে গিয়েছিলাম গত পরশু। পাশে একজন ব্যক্তি তার অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে বসে আছেন। জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে বাচ্চার। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে -আর বইলেন না! হওয়ার পর থেকেই একটা না একটা সমস্যা লেগেই আছে। বয়স অক্টোবরে দুই বছর হবে, অথচ দেখেন দেখলে মনে হয়, ৬মাস।
বাচ্চার নাম কি, জানতে চাওয়াতে বললেন, রামিম ফাওযান।
দেরি হয়ে যাচ্ছিল, তাই এতটুকুই শুধু বললাম, ভাই! ডাক্তার তো অবশ্যই দেখাবেন। কিন্তু “রামিম” নামটাও পাল্টে ফেলেন। এর অর্থ ভাল না। জীর্ণ শীর্ণ, ক্ষয়প্রাপ্ত। কুরআনের সুরা ইয়াসিনে decomposed অর্থে ব্যবহার হয়েছে।
আরেক পরিচিত বোনের ঘটনা এই ফেসবুকেই পড়েছি। তার একমাত্র ছেলে মাত্র চার বছর বয়সে হঠাৎই মারা যায়। বেড়াতে গিয়েছিলেন। সবাই যখন দুপুরের খাবারে ব্যস্ত, ছেলেটি কোন ফাঁকে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। রাস্তার পাশে একটি ছোট পুকুরের মত। সেখানেই হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তার।
তারা না জেনে তাদের এই ছেলের নাম রেখেছিলেন "তাবীব"। যার একটি অর্থ "ধ্বংসপ্রাপ্ত"। সুরা লাহাবের "তাব্বাত ইদা আবি লাহাব" অায়াতে এই একই অর্থে শব্দটি verb/ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সবরের তাউফিক দিন।
উত্তরা নয় নাম্বার সেক্টরে একটি এপার্টমেন্ট "হাবিতাত বিল্ডারস" কতৃক নির্মিত। হাবিতাত অর্থ ধ্বংস হয়ে যাওয়া। (আল্লাহ তা'অালা হিফাযত করুক)।
নামের একটি প্রতিক্রিয়া আছে, এটি হাদিস দ্বারা প্রমানিত। পাশাপাশি, দুনিয়াতে ব্যবহৃত নামেই আমাদেরকে আখিরাতে ডাকা হবে। খারাপ নাম থাকলে খারাপ নামে, ভাল থাকলে ভাল।
কুরঅানে ব্যবহৃত হলেই কোন শব্দের অর্থ ভাল হয়ে যায় না। কুরঅানে ফিরআউন, হামান, আবু লাহাবের নামও আছে। এসমস্ত নাম কুরঅানের আয়াত হিসেবে পড়লে প্রতি অক্ষরে দশটি করে সাওয়াব পাওয়া যাবে, কিন্তু কারো নাম হিসেবে যে এ শব্দগুলো ভাল নয়, তা তো সবাই বুঝে।
এজন্য কুরঅান বা হাদিসের বই থেকে কোন শব্দ পছন্দ হলেই নাম রেখে না দেয়া। আনকমন নামের পেছনে না পড়া। কোন নির্ভরযোগ্য আলিমের সাথে পরামর্শ করা অবশ্যই জরুরী। গুগল করে বা নামের বই দেখে নিজে নিজে নাম রেখে দেয়াটা অনেক রিস্কি। অনেক নামের ভাল খারাপ দুটো অর্থই থাকে। গুগল বা নামের বই আপনাকে ভাল অর্থটা বলবে,খারাপটা চেপে যাবে। আমাদের পাশের বাসার আপু তার ছেলের নাম এভাবে গুগলে দেখে রেখেছেন "ইহান"। উর্দুতে যার অর্থ "পূর্ণ চন্দ্র", কিন্তু অারবীতে এর অর্থ "অপমানিত/লাঞ্ছিত"।
প্রতিটি বাবা মার মনে রাখা দরকার, সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পর তার একটি সুন্দর নাম রাখা তাদের দায়িত্ব। এটা সন্তানের হক। এই হক আদায়ে অবহেলা হলে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
আল্লাহ তা'অালা আমাদের সতর্ক হওয়ার তাউফিক দিন।
Collect From: Rizwanul Kabir
Farhan Faysal Anick
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?