জামাল চাচা কৃষি মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন, ঘুষখোর হিসেবে উনার একটা খ্যাতি আছে, তিনি এবার হজ্বে যাচ্ছেন।

গত শুক্রবারে জুমার নামাজের পর উনার সাথে দেখা, সালাম দিয়ে জানতে চাইলাম-

- চাচা, শুনলাম আপনি নাকি হজ্বে যাচ্ছেন, আমারও তো যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, তো খরচ কত হচ্ছে আপনার?

- বেশি না, দুই লাখের মত। আমি তো সরকারী খরচে যাচ্ছি, তাই অল্পতেই হয়ে যাবে।

- এত কমে কিভাবে সম্ভব? সরকারী জব করলেই কি সরকারী খরচে হজ্ব করা যায়?

- আরে না, আমি যাচ্ছি ডাক্তারদের গ্রুপের সাথে।

- আপনি তো কাজ করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ে, ডাক্তারদের সাথে গিয়ে কিভাবে কি করবেন আপনি?

- আরে বোকা, প্রতি বছর ডাক্তারদের সাথে আরো অনেক সহকারী যাওয়া লাগে,যারা ডাক্তারদের সহায়তা করে থাকে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, ড্রাইভাররাই যায়। ফ্রিতে হজ্ব করে আসা যায়, সাথে আবার কিছু টাকাও পাওয়া যায়। অনেক দেনদরবার করে সেই লিস্টে এ বছর আমার নামও ঢুকিয়ে দিয়েছি।

- ওহ আচ্ছা, বুঝলাম। তো ফ্রিতে যদি যাওয়া যায় তাহলে দুই লাখ টাকা খরচ হচ্ছে বললেন যে।

- ডাক্তারদের গ্রুপের সাথে যাওয়ার জন্য উপরমহলে কিছু খরচাপাতি দিতে হয়, তাছাড়া হাজার হাজার সরকারী চাকুরীজীবী এভাবে হজ্বে যাওয়ার জন্য প্রতি বছর মুখিয়ে থাকে। এত এত প্রতিযোগীতার ভিড়ে কিছু টাকা তো খরচ করতেই হবে।

- তার মানে আপনি ঘুষ দিয়েছেন?

ঘুষ শব্দটা শুনে চাচার মুখটা কেমন যেন হয়ে গেলো। আমতা আমতা করে জবাব দিলেন,

- তুমি একটু বেশি বুঝো। ঘুষ না এটা, হালকা খরচাপাতি আর কি।

- আচ্ছা।

- তো চাচা এভাবে হজ্বে যাওয়াটা কি অবৈধ হবে না? সরকারী খরচে যাদের যাওয়ার কথা তাদের না নিয়ে আপনারা যাচ্ছেন, বিষয়টা কেমন হয়ে গেলো না?

- গ্রুপে ডাক্তার তো যাচ্ছেই, সাথে নার্সও যাচ্ছে, কাজের কাজ তো হবেই। সৌদি গিয়ে কোন হাজী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসা পেতে তো আর ঝামেলা হবে না। তাছাড়া অসুস্থ আর হয়ই বা কতজন! সাথে আমরাও হজ্ব করে আসলাম, আল্লাহর ঘর দেখে আসলাম।

- যে উদ্দেশ্যে জনগণের টাকা খরচ করে আপনাদেরকে হজ্বে পাঠাবে তার তো কোন সুফলই পাওয়া যাবে না। তার উপর আপনারা ঘুষ দিয়ে অন্যায় উপায়ে যাচ্ছেন। আপনাদের হজ্ব কি কবুল হবে?

- তুমি দেখি বড় হুজুর হয়ে গেছো, কবুল করার মালিক তো আল্লাহ, তুমি আগে থেকেই সার্টিফিকেট দেওয়ার কে।

- না মানে, আপনারা তো অবৈধভাবে যাচ্ছেন, তাই বলছিলাম আর কি। আল্লাহ যেমন হজ্ব ফরজ করেছেন, আবার এরকম প্রতারণার আশ্রয় নিতে, ঘুষ দিতে বা নিতেও নিষেধ করেছেন।

- আগে তো মক্কা মদিনায় যাই, যদি কোন অন্যায় করে থাকি তবে আল্লাহর ঘরের সামনে গিয়ে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নিব নে। জানই তো আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল।

একটা হাদিস আছে, হজ্ব করে আসার পরে আল্লাহর বান্দারা শিশুর মত পবিত্র হয়ে যায়, শোননাই হাদিসটা?

- জি চাচা, শুনেছি।

চাচার সাথে আর কথা বাড়ালাম না।

সারাজীবন হারাম ইনকাম করে এখন পুতপবিত্র হতে চায়, কি সুন্দর আইডিয়া!

হজ্বের মত একটা পবিত্র জিনিস নিয়ে দুর্নীতি বোধয় এই বাংলাদেশেই সম্ভব!

মুখে দাড়ি আছে, মাথায় টুপি দিয়ে অফিসে যান, কিন্তু ভেতরে সব কলুষিত। উনার বেতন ত্রিশ হাজারের বেশি হবে না, বিশ বছর ছোট পোস্টে চাকরী করেই ঢাকায় বাড়ি কেনার চিন্তা করছেন, গ্রামে অনেক জায়গাজমি কিনেছেন। বড় ছেলেকে ঢাকার নামকরা প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়াচ্ছেন, বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করে, ছোট ছেলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে, তার বাসার টিউটরকেই প্রতি মাসে দিতে হয় ৬ হাজার টাকা করে। যে বাসায় ভাড়া থাকেন তার ভাড়াও বিশ হাজারের উপরে।

এত টাকা আসে কোত্থেকে?

বুঝাই যায় উনি কেমন ধরণের মানুষ। এমন মানুষের হজ্ব কি কবুল হওয়ার মত? এমন দুর্নীতিবাজরা কি হজ্বের পরে নিষ্পাপ শিশু হয়ে যাবে?

(জামাল চাচা এবং উপরের কথোপকথনটা সম্পুর্ণ কাল্পনিক, বাস্তবতার সাথে মিলে গেলে Sujauddin F. Sohan দায়ী )
কারণ পোস্ট টা উনার লেখা।

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন