গল্প : " স্কুলের প্রেম স্মৃৃতি
একবার ঈদের দু'দিন আগে সন্ধার পর সবাই বসে টিভি দেখছি তখন আমার এক ছোট্ট চাচাতো ভাই আসলো আমাদের ঘরে আমাকে ডাকতে ডাকতে।
ওর নাম তৌসিফ। বয়স মাত্র ৬ বছর। নার্সারি -2 তে পড়ে।
-রুমানা আপু,রুমানা আপুরে একটা কথা শুনবেন?
আমি টিভির দিকে তাকিয়েই জবাব দিলাম,
-হুম,বল কি কথা?
-পরশু দিন ঈদে(ঈদগাহে) যাবো,আর আসার সময় আমার আম্মুর জন্য কি আনবো জানেন?
-কি আনবি?
-গ্যাস্ট্রিক এর ঔষুধ। হেহেহে।
ওর কথা শুনে হাসি পেল।এবার ওর দিকে তাকিয়ে বল্লাম,
-কেন ঔষুধ কেন? খাওয়ার কিছু আনবিনা?
-আরে আপনি তো জানেন না,আমার আম্মুর পেটে অনেক গ্যাস।সারাদিন শুধু.........হেহেহে।
-তোর আম্মু যদি শুনে তুই এসব কথা বলছিস তোর আম্মুর নামে,মেরে তোকে তক্তা বানিয়ে দেবে।
-হেহেহে, কি গ্যাস জানেন?নাম জানেন?
-কি গ্যাস?
-নুরুল গ্যাস।(তৌসিফের বাবার নাম)
ওর বুদ্ধি দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম।
তারপর ও বল্লো
-আর রাফির(ওর ভাই) পেটে সুরাইয়া গ্যাস।
তারপর একে একে অনেকের নাম উঠে এল,কার পেটে কি গ্যাস।কোন গ্যাসের নাম মুন্নি, কোনটা তন্নি,কোনটা পলাশ.......।
এবার চলুন আপনাদের সে সব গ্যাসের খনির মানে স্কুলের কিছু গল্প বলি।
একদিন চাচাতো বোন একটার হাতে দেখি বেতের বাড়ির দাগ।জিগেস করলাম কি করে হলো এটা?
-মার খেয়েছিস? কোন স্যার মারছে?
-নানা স্যার।(বয়স্ক ছিলেন ওই স্যার।তাই সবাই উনাকে নানা স্যার নামে ডাকতো)
-কেন মারছে?
-ক্লাশে সবার থেকে পড়া না নিয়ে জিগেস করে কার কোন আত্নীয়,ভাই,দুলাভাই, বাবা বিদেশ আছে?
-তারপর?
-আমার মামা বিদেশ থাকে বলেছি।তারপর উনি বল্লো,কেন বিদেশ কেন গেছে? এটা বলে দিছে মার।
-এটা কেমন কথা?
-হ্যা তো,ক্লাসের যাদের কেউ বিদেশ থাকে তাকেই মারে।
আর স্কুলে আসে কিভাবে জানেন আপু?
-কিভাবে?
-প্লাজু পায়জামার মতো পেন্ট একটা পরবে।জুতা টাকে হাতে নিয়ে ইয়া বড় ছাতাটা বোগল দাবা করে হেঁটে আসে।তারপর স্কুলে এসে জুতা পরে।
-হাহাহা, কি বলিস এগুলা!
তারপর একদিন স্কুলে কি একটা কাজের কারণে ৪র্থ ঘন্টার ক্লাশ টা মিস গেলো।সব ছাত্র-ছাত্রী যে যার ক্লাসে দুস্টামি করছে।
Class -8 এর একটা ছেলে সবুজ তারই ক্লাসমিট লুবনাকে পছন্দ করতো। সেদিন সবুজের এক বন্ধু মাথায় রুমাল বেঁধে কাজী সাজলো।দুজন সাজলো সাক্ষী। কাজী সাহেব বেশ জোরে জোরে বিয়ে পড়াতে লাগলেন আউজুবিল্লাহ্,বিসমিল্লাহ্ বলে
-আলহামদুলিল্লাহে রাব্বিল আল-আমিন।আর-রাহমানির রাহিম.....।"
"কুল হু আল্লাহ্ হু আহাদ...."
আরো কিছু দোয়া-সূরা পড়লেন।তারপর সবুজকে বল্লেন, পাঁচ কালিমা পড়তে।
সবুজ ও পড়তে শুরু করলো,
-লা ইলাহা ইল্লাললাহু..........
হুজুর সব গুলাতো পারিনা।
-যে টুকু পারো ততোটুকু ই হবে।
হাজিরানা মজলিস,আপনারা তিনজন গিয়ে কন্যা লুবনাকে কবুল বলতে বলুন।
এদিকে ক্লাসের সবাই ওদের এই বিয়ে পড়ানোর কায়দা দেখে তো হেসে কুটিকুটি।
তারপর তিনজন গেলো লুবনার বেঞ্চের দিকে।বলো কন্যা সবুজের সাথে এই বিবাহে তুমি রাজি আছ।বলো কবুল...।বলো কন্যা কবুল...।
(লুবনা এবার তেড়ে উঠলো)
-স্যান্ডেল দেখেছিস?এটা দিয়ে মারবো তোদের?
কন্যার কবুল বলা হলোনা।সবুজের আরেক বন্ধু লুবনার পক্ষ হয়ে কবুল বল্লো। সকলে স্বমস্বরে বলে উঠলো, " আমিন "
-সবাইকে মিস্টি খাওয়া।(সাক্ষী)
-মিস্টি তো পাবিনা,সবুইজ্জা টাকা দে ক্যান্টিন থেকে সিপন কেক এনে সবাইকে মিস্টি মুখ করা।(কাজী)
Class 9 আর Class 10 এর মধ্যে ছিলো তখন তুমুল দন্দ। এক ক্লাসের সাথে অন্য ক্লাসের শত্রুতার সম্পর্ক। কিন্তু Class 9 এর ছাত্রী শাম্মির প্রেমে পড়ে গেলো Class 10 এর ছাত্র রিফাত।
প্রেম মানেনা কোন বাঁধা।রিফাত ও তাই শত্রু পক্ষের শাম্মির প্রেমের ফাঁদে আঁটকা পড়ে কতো উঁকি ঝুঁকি দিয়ে শাম্মিকে দেখতে লাগলো। ওদের অবস্থা দেখে আমারা যখন Class 10 এ ছিলাম তখনকার সময়ের আমার এক Friend এর কথা মনে পড়লো।
বেচারা সুমাইয়া (ছদ্মনাম) নামের নবম শ্রেণীর এক মেয়ের প্রেমের চোরাবালিতে আঁটকেছিলো।
. তখন ইটের দালান ছিলো স্কুলে।আর দেয়ালের মাঝের ২,৩টা ফাঁকে ইট দেয়াছিলো।
বেচারা আর বেচারার বন্ধুরা সেই ইট সরিয়ে বেচারা ডাকতো-" এই....,এই..."বলে আর আমাদের অন্য Friends রা ডাকতো- "ভাবি...ও ভাবি..."
আহারে কি প্রেমটাই না ছিলো তখন।তবে পরে মেয়েটার হিটলার মা আর কুটনি বোনের জন্য আমাদের বেচারা Friend ছেঁকা নামক অখাদ্য কে খেতে হলো।
যাক গে বর্তমান রিফাত-শাম্মির প্রেমে ফিরে আসি।
তারপর রিফাত অনেক কস্টে কেমনে কেমনে জানি শাম্মিকে তার হৃদয়ের কথা জানালো। কিন্তু শত্রুপক্ষের সাথে এমন সন্ধিতে রাজি হলো না শাম্মি।
রিফাতের সে কি চেস্টা,তদবির...।
কিন্তু কিছুই হলো না। উল্টো কি একটা কারণে দুই পক্ষের ঝগড়া বেঁধে গেলো।
ছুটির পরেও কথা কাটাকাটি হলো।এক পর্যায়ে ব্যার্থ প্রেমিক রিফাত কস্টে,ক্ষোবে গলা পাটিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো,
-এই শাম্মিনি শোন,আমি রিফাত বলে তুই কালিনি কে ভালোবেসেছিলাম। আরে তোর দিকে তো কোন ছেলেও তাকায় না।
আমার ভালোবাসা বুঝলি নারে কালিনি।
(কান্নায় গলার কাঁপা কাঁপা স্বর শোনা যাচ্ছিল)
আমি অভিশাফ দিচ্ছি তোকে, শাম্মিনি তুই জীবনে ও সুখি হবি না!!
ও দিকে শাম্মি তো গোখরা সাপের মতো ফোঁসফোঁস করতে লাগলো চোখ বড় বড় করে।
অপর দিকে স্কুলের আর কত গুলা পাজি ছেলে-মেয়ে ওদের কান্ড দেখে বল্লো
-তালি হবে বন্ধুরা। আরো জোরে। ওই নেলি তালি দিস না কেন?
তালি দে।
পরদিন তো অফিসে নিয়ে গিয়ে স্যারেরা এমন রাম ধোলাই দিলেন....!
হাই স্কুল জীবনের কত প্রেম যে এভাবে অকালে ঝরে গেলো।কতো লাইলি-মজনু,রোমিও -জুলিয়েট দের গল্প নাট্যকার, গল্পকার রা খুঁজে নিতে পারলে লিখে শেষ করা মুশকিল।
সবাই সবার পুরোনো হাই স্কুলের প্রেমের স্মৃতি থেকে ঘুরে আসুন একবার।
দেখবেন হাসি পাবে
Salman Foysal
Удалить комментарий
Вы уверены, что хотите удалить этот комментарий?
Habibullah Mullah
Удалить комментарий
Вы уверены, что хотите удалить этот комментарий?
Riajul Hassan
Удалить комментарий
Вы уверены, что хотите удалить этот комментарий?