বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধোত্তর রাজনীতি ও গণতন্ত্র
আচ্ছা আজকাল এমনটা মনে হয় কেনো? সবভালোর দলেই আছি কিংবা সবভালোর দেশেই. …...এটা প্রকৃতগত যে, মানুষ কোন রিফ্লেটর ছাড়া নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায়না শুধুই তাই নয়, মানুষ নিজের ত্রুটিও নিজে দেখতে পায়না যা দেখতে অন্য মানুষের সাহায্য দরকার। এপর্যন্ত মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এমন কোন জাতিই খুজে পাওয়া যাবেনা যারা, কোন ভুল করেনি কিংবা মুসলিমদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছাড়া নির্দোষ কিংবা নির্ভুল ব্যাক্তি আছে তা এই মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের শতকারা একশো ভাগ লোকই মনে করে না। এটা একটা প্রচলিত সত্যি " মানুষ মাত্রই ভুল " আর, ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয় নতুন করে। যেকোন মানুষের ভুল হতে পাড়ে, ভুল করেনা একমাত্র অতিমানব কিংবা শয়তান। তাহলে আমরা যে দেশে বসবাস করছি সে দেশের রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান থেকে একজন সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সবাই মানুষ আর যেকোন মানুষের ভুল হতে পাড়ে এটাই সত্যি। বাংলাদেশে বর্তমানে যে দল রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন টানা তৃতীয় মেয়াদে সহ সর্বমোট পাঁচটি পূর্ণ মেয়াদে সেদলই এদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন ও অসাম্প্রদায়িক উদার বামগঘেষা একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন কিংবা ১৯৬৬ এর ছয়দফা আন্দোলন এবং 1969 এর গণ-অভ্যুত্থান সহ সকল আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী এই দল। যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী এই আওয়ামীলীগ আছে বিগত টানা দুই মেয়াদ ধরে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইবেই এটাই স্বাভাবিক, আমি যদি মোটা দাগে আওয়ামীলীগের উন্নয়ন এর চিত্র কিছুটা তুলে ধরি তাহলেই সর্বপ্রথমেই আসবে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এই ভরা সেচ মৌসুমেও পল্লী থেকে শহর পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ লোড-সেডিং ছাড়াই, যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা ঢাকা ও চট্রগ্রাম সহ প্রতিটি বড় বড় শহরে অসংখ্য উড়াল সেতু নির্মাণ, ঢাকা চট্রগাম সড়কপথ এরই মধ্যে চারলেনে উন্নিতকরণ, ঢাকা সিলেট হাই-ওয়ে দুইলেনের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সমাধান, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ এরই মধ্যে এককিলোমিটার এর বেশী দৃশ্যমান করে তোলা, ঢাকায় মেট্রোরেলের কাজ এবং আশাবাদ ব্যাক্ত করা যায় এবছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই মেট্রোরেলের কাজ শেষ হবে, ডিজিটালাইজেশন, মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার 7% এর উপরে এছাড়াও দারিদ্রমুক্ত, খাদ্যে শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণতা সহ অনেক উন্নয়ন চোখে পড়ে। এতোকিছুর পরও যে সরকারের কিছু ব্যার্থতা থাকতে পাড়ে তা অস্বীকার করা নেহায়েতই তোষামোদ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিগত জাতীয় সংসদ সহ বর্তমান জাতীয় সংসদে কার্যত কোন শক্তিশালী বিরোধী দল নাই, ফলে সংসদে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও হচ্ছেনা যা, সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া সরকার হিসেবে পরিচিত যেখানে, সরকারের ব্যার্থতাগুলোকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করতে পাড়লে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের সীমাবদ্ধতাগুলো নজরে আসতো এবং সেগুলো অতিক্রম করার একটা প্রয়াস গ্রহণ করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে আরোও মসৃণ যুগপোযোগী করা যেত। তাছাড়াও দেশের প্রিণ্ট মিডিয়া, ইলেল্ট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে লেখাকে এখন গুরতর অপরাধ এবং যারাই লেখালেখি করার চেষ্টা করেন তাদের সামনে ডিজিটাল সুরক্ষা আইন খড়গ হয়ে ঝুলছে ফলে কার্যত বিরোধী ধারার লেখালেখি কিংবা সরকার প্রধানের কোন ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা ও করছেনা সাধারণ সুশীল সমাজ, ককলমসৈনিক সহ বুদ্ধিজীবী মহল আর, আমার দৃষ্টিতে সে সুযোগ ও নেই ফলে গা'বাঁচিয়ে চলার মতো নীতি অবলম্বন করে অনেকেই তোষামোদ এ ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন সংবাদ মাধ্যমের একটা বড় অংশ, যার ফলে বঞ্চিত হচ্ছে সর্বসাধারণ এবং আত্মতুষ্টিতে ভুগছে খোদ সরকার প্রধান থেকে প্রতিটি জনপ্রতিনিধি.... আর বহু আন্দোলন সংগ্রাম এবং তিরিশ লক্ষ শহীদ এবং লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতন্ত্র আজ কেতাবি ভাষায় পরিণত হচ্ছে এবং এর অন্তরালে ক্রমেই বিকশিত হচ্ছে একদলীয় শাসন। এসম্পর্কে কারোও কোন দ্বিমত নেই সরকার প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ব্যাক্তি হচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং জননেত্রীর জনপ্রিয়তাও আকাশ্চুম্বী কিন্তু কোনভাবেই জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে বেশী নয়। 1975 সালের 15 ই আগস্ট বাংলার ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আগে সরকারি সিদ্ধান্তে চারটি পত্রিকা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম টিভি ও বেতার রেখে সব গুলো গণমাধ্যম অবৈধ ঘোষণা করে সেগুলো প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো ফলে, চারটি পত্রিকা সরকারের সমালোচনা না করে তোষামোদ এ ব্যস্ত থাকায় বঙ্গীয় মীর জাফর খন্দকার মুশতাকদের ষড়যন্ত্র সরকার তথা গোয়েন্দা সংস্থার ও দৃষ্টিগোচর হয়নি ফলে কঠিন মূল্য চুকাতে হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী এই দলটিকে।1975 সালের 15 ই আগস্ট স্বপরিবারে শাহাদাৎ বরণ করতে হয় বঙ্গবন্ধুকে, 1975 সালের 4 নভেম্বর কারাভ্যন্তরে নিহত হতে হয় জাতীয় চারনেতাকে......
Sumon Hossain
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
S M Akter Hossain
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Habibullah Mullah
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
℘rơɬɨҡ Տհɑħɑ
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?