পর পর দুইবার এইচএসসি ফেল করা
ছেলেটা Additional superintendent of police
(ASP) bd police
সবকিছু কেড়ে নিয়ে বাবা আমাকে
বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলো।
বাড়ি থেকে বের হবার পর বাড়ির মূল
গেইটে দাড়িয়ে ছিলাম। আম্মু দোতলার
বারান্দায় দাড়িয়ে আমাকে দেখে
কাঁদছিলেন। কিছুক্ষন পর আব্বা আম্মুকে
ধমক দিয়ে বারান্দা থেকে ভিতরে নিয়ে
গেলেন এবং বারান্দার দরজা বন্ধ করে
দিলেন।দুই বছর আগে বাবা গত হয়েছেন ।
মা আরেকটা বিয়ে করেন।কিন্তু
এসএসসিতে ফেল করার পর সৎ বাবা
আমাকে পড়াতে দিতে রাজি না ।
বলেছে নিজের টাকা দিয়ে নিজে
পড়তে আর নিজের রাস্তা করে নিতে ।
তখন আমি কলেজে পড়ি।সৎ বাবার সাথে
আর কথা বাড়াই নি।ও হ্যা,আমাদের
বাড়ি রংপুরে।বাবা মারা যাওয়ার পর
মায়ের আর জায়গায় হয়নি আমার দাদুর
বাড়িতে চাচারা বেড় করে দেন। পরে মা
আমাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।
গ্রাম থেকে এসে ঢাকা শহরে থাকা
চাট্টিখানি কথা নয় । তাও যদি বাসা
থেকে টাকা না আসে তাহলে ঢাকা
শহরে কুকুরও গুনে দেখে না । রাস্তায়
দাঁড়িয়ে ভেংচি কাটে ।
জীবনযুদ্ধটা শুরু হয়েছিল সেই বয়েস
থেকেই । মামাদের কাছে হাত পেতে
কিছু সাহায্য চেয়েছিলাম । পাইনি ।
আমার বাবার সম্পত্তির অবস্থাও খুব
ভালো ছিল না । এরমধ্যে বাবা মারা
গিয়ে জটিলতা আরো বাড়লো । আমি
কিছুই পেলাম না ।মামারা কৌশলে সব
কিছু নিজের করে নিলেন ।
আমার এখনো মনে আছে আমার বাবার
কেনা জমিগুলোর জন্য মা আর আমি
গিয়েছিলাম ট্রেনে করে দাদুর বাড়িতে
চাচাদের কাছে। তার ফিরিয়ে
দিয়েছিলো। একমুঠো খাবার ও দেয়নি।
তখন শীতের সময় ছিলো সেদিন রাতের
ট্রেনেই মায়ের আঁচলে করে ঢাকায়
ফিরেছিলাম।
বাবা নেই । বাধ্য হয়ে একটা গার্মেন্টস
কাজ ধরলাম । আসলে কাজের কোনো
অভিজ্ঞতা ছিলোনা তো তাই আমাকে
মেশিনের কোনো কাজ না দিয়ে ,কাজ
দিলো চা, বানানোর,রান্না করার ।
মানুষের এটো প্লেট ধোয়া , বেসিন
পরিস্কার রাখা , ময়লা আবর্জনা নিয়ে
ডাস্টবিনে ফেলা এই ছিল আমার কাজ ।
বিনিময়ে পেতাম ২ বেলা খাবার । আর
পহরীদের সাথে রাতের বেলা ঘুমানোর
জায়গা । ও হ্যা ... সপ্তাহে ৩ দিন
কলেজে যেতাম । যেদিন ওইদিন
ওভারটাইম করে কর্ম ঘন্টা পুষিয়ে দিতে
হতো রাতের বেলা । গার্মেন্টস এর
মেনেজার মালিকরা আমার একদম নির্দয়
ছিল না । মাস শেষে হাতে গুজে দিতো
কয়েক হাজার টাকাও । একটা অভ্যাস
দাঁড়িয়ে গেলো আমার !! বেতন পেলেই
টাকাগুলো নিয়ে স্ট্রিট ল্যাম্পের নিচে
এসে ভিক্ষুদের পাশে বসে গুনে দেখতাম
। ঠিক আছে তো !! নাকি কম দিলো ?
আমার খুব করে মনে আছে গার্মেন্টস
থেকে রাতের বেলা বই পড়তে অনেক
সমস্যা হতো, আমি লাইট জালিয়ে পড়তে
পারতামনা বাকিদের সমস্যা হতো।তাই
চাদরের নিচে বই নিয়ে মোবাইলের
ফ্লাশ জালিয়ে পড়তাম।
গার্মেন্টস এর বেতন দেয়নি দুইমাস সাথে
খাবার এর টাকাটাও দুই মাস মেসের
টাকা দিতে পারিনি বলে আমাকে মেস
থেকে বের করে দিয়েছিল । অনেক অনুনয়
করেও থাকতে পারিনি । সেই দিনটার
কথা মনে পড়লে আজও খুব খারাপ লাগে ।
একটা টিনেজ ছেলে বই খাতা আর লেপ
তোশক নিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছে ।
স্ট্রিট ল্যাম্পের আলোটা গায়ে এসে
পড়ছে । নিজেকে অসহায় লেগেছিল খুব !!
এক বছর পর।
আবার আমি এইচএসসি পরীক্ষা দিলাম।
তবে এবার পাস করলাম। এ প্লাস
পেয়েছি, অল্পের জন্য গোল্ডেন পায়নি।
সেদিন মায়ের কাছে গিয়েছিলাম খুশির
খাবার টা দেওয়ার জন্য কিন্তু গিয়ে
মাকে পাইনি সৎ বাবা আরেকটা বিয়ে
করেছে আম্মুর কথা জিজ্ঞে করাতে
বলেছিলো,তুমি চলে যাওয়ার পর পর
তোমার মা চলে যায় আর আসেনি।
সেদিন থেকে আজ ও আমি আমার
আম্মুকে খুঁজে পাইনি অনেক খুজেছি।
ঢাকা ভার্সিটিতে এক্সাম দিলাম ।
টিকেও গেলাম । কিন্তু পছন্দের
সাবজেক্ট এলো না ।
ভর্তি হলাম ঢাবিতেই । মনে আছে
ঢাবিতে চান্স পাওয়ার পর আমি সেদিন
রাতে মেসে যায়নি স্ট্রিট ল্যাম্পের
নিচে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে
পড়েছিলাম । কেন কেঁদেছিলাম জানি
না ।
সাবজেক্ট পেলাম ইতিহাস । সেই
ইতিহাস থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট
করে চাকুরীর বাজারে দৌড়
লাগিয়েছিলাম ।
জীবনে প্রেম করার সাহস হয় নি । আমার
মতো ছেলেদের প্রেম করার মানসিকতা
থাকে না । কি করে থাকবে ? যখন আমার
বয়সী টিনেজ ছেলে গার্লস কলেজে
মেয়েদের পেছনে ঘুরতো তখন আমি সময়
দিতাম গার্মেন্টস এ ।
যে বয়সে সন্তানেরা বাবার হাত ধরে
এটা সেটা কেনে সেই বয়সে আমি টাকার
অভাবে ফুটপাতে রাত কাটিয়েছি ।
সবাই যখন নিজের স্বপ্ন পূরনের জন্য
বিভিন্ন জায়গায় এডমিশন দিতো সেই
সময় আমি টিউশন করিয়ে পেট
চালিয়েছি । পাশাপাশি পড়াশুনা । কে
জানতো এইরকম লাগাম ছাড়া একজন
মানুষ জীবন যুদ্ধে টিকে যাবে ?
যখন আমি গল্পটা আপনাদেরকে বলছি
তখন কিন্তু আমি টিউশন করাচ্ছি না । আর
গার্মেন্টস ও কাজ কাজ করিনা।
একটা থানায় Additional superintendent of
police(ASP) bd police দায়িত্বে আছি হ্যা
মোটা অংকের টাকাও পাই মাস শেষে।
জীবন আমার থেকে সব রকম পরীক্ষাই
নিয়েছে । আমাকে টলাতে পারেনি
যখন এতোগুলো টাকা মাসের শেষে পাই
এখনো সেই স্ট্রিট ল্যাম্পের আলোয়
গিয়ে টাকাগুলো গুনে দেখি।
পুরনো অভ্যাসটা,পাল্টাতে পারিনি।
যখন পেছনে ফিরে তাকাই তখন দেখি
একটা টিনেজ ছেলে বই খাতা নিয়ে
ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছে । স্ট্রিট
ল্যাম্পের আলোয় তার পরনের মলিন
জামা কাপড়টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ।
কে জানতো জীবন তাকে এক ধাক্কায়
উপরে তুলে নেবে ? কেউ জানতো না ।
মাকে আমি আজও খুঁজি,মা আমার এখনো
বেচে আছে আমার মন বলে।
বর্তমান যেমনই হোক , ভবিষ্যৎ ভালোই
হবে । কেননা ভবিষ্যৎ ভালোর জন্যই
GO AHEAD
KEEP SMILING
Habibullah Mullah
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Kawsar Hossain
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Ananda Deb
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Sabiqunnahar
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Sabiqunnahar
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Monayem
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Md. Sabbir Ahmed
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Masum masum
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?