#ভাইরাল করা যাবে ? প্লিজ ?
#শিক্ষা_ব্যবস্থা
#জনস্বার্থে, খুব জরুরি দাবি, #
ফেইসবুক গ্রুপ #শিক্ষা_ও_শিশু_রক্ষা_আন্দোলন (#শিশির) থেকে সংগৃহিত :
আপা! আপনার বাচ্চা কোন স্কুলে পড়ে?
মাধ্যমিক পর্যন্ত পাবলিক স্কুলিং এলাকা ভিত্তিক (গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন, শহরে ওয়ার্ড) করে এলাকা ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডেভেলপে মনঃ দেয়া দরকার। এতে ভর্তি বাণিজ্যে ভাটা আসবে এবং অভিভাবক কমিটির দাপটও কমে আসবে। এর সবচেয়ে জরুরি উপাদান হচ্ছে এর ফলে রাজনীতিবিদদের উপর প্রতি ইউনিয়নে এবং শহরের ওয়ার্ডে মানসম্পন্ন স্কুল গড়ার, স্কুলের যায়গা ও মাঠ দখল মুক্ত রাখার চাপ তৈরি হবে। অন্যদিকে স্কুলিং এলাকা ভিত্তিক হলে নগরে যানজট কমবে, অর্থাৎ আন্তঃ এলাকা যান পরিবহণ কমিউটেশন কমে আসবে। তবে এটা যাতে হুট করে করা না হয়, ২-৩ বছর একালা ভিত্তিক ও জনমিতি ভিত্তিক স্কুলিং অবকাঠামো তৈরি করে, পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন প্রস্তুতি নিয়ে পরে এটা বাস্তবায়ন করতে হবে।
আজকে ২ কোটি রাজধানী বাসীর সবাই মেয়েকে ভিকারুন্নেসায় কিংবা ছেলেকে আইডিয়ালে পড়াতে চায় (প্রতিটি শহরে এই সমস্যা আছে, ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একেবারেই অপ্রতুল), ফলে একদিকে ভর্তি বাণিজ্য রমরমা হয়ে, স্কুলের অভিভাবক কমিটির নির্বাচন এম্পি নির্বাচনের মতই লাভজনক ও কালোটাকার ইনভেস্টমেন্টের প্রসেস হয়ে গেছে।
অন্যদিকে এর ফলে সমাজে একটা অন্যায্য এলিট একটা ডগমা চালু হয়েছে। আপা! আপনার বাচ্চা কোন স্কুলে পড়ে? এই হীনমান্য ডগমা ভেঙে ফেলা হোক। প্রতি এলাকায় মানসম্পন্ন স্কুল তৈরি হোক, এটাই টেকসই উন্নয়নের এলিমেন্ট।
কাল ভিকারুন্নিসা স্কুলের একজন সম্মানিত অভিভাবিকা দাবি করেছেন ৫ম শ্রেণীর ক্লাসে ৮৩ জন বাচ্চা। একটা ১ ঘন্টার ক্লাসে ৮৩টা বাচ্ছা নিয়ে যে ক্লাস টিচার ডীল করেন, আমি বুঝতে পারি যদি সেই শিক্ষক সৎ ও আন্তরিক হন, তার পাগল ও অসুস্থ হয়ে উঠার কথা। এই দিকগুলো সমাধান না করে অগুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে আলাপ তোলা নির্বোধের কাজ।
কোন সাইজের ক্লাসে ঠিক কত বাচ্ছা থাকবে, তার একটা স্টান্ডার্ড চাই। ১ জন শিক্ষকের বিপরীতে ঠিক কত বাচ্ছা থাকবে তা ঠিক করুন। আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায় ৪০ এর বেশি বাচ্চার জন্য দ্বিতীয় শিক্ষক দরকার। দেশেও প্রায় ৬০ লক্ষ শিক্ষিত যুবক বেকার। এদের মেধাবী ও যোগ্যদের কিছুকে প্রপার ও কন্টিনিউয়াস ট্রেনিং প্রসেসে এনে নিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থান এগিয়ে নিন।
আরেক্টা ব্যাপার হচ্ছে, প্রতিদিন প্রতিটা বিষয়ের ৫০ মিনিট বা ১ ঘন্টার ক্লাস। এতে ভুয়া ও অযোগ্য শিক্ষক গল্প স্বল্প করে সময় পার করেন। অন্যদিকে ভালো শিক্ষক সময়ের অভাবে সবগুলা বাচ্ছার বুঝার সক্ষমতা যাচাই করতে পারেন না। দিনে সর্বোচ্চ ৩ টা বিষয় পড়ান, দেড় থেকে দু ঘন্টা করে ক্লাস করুন এবং ক্লাসেই পড়া শেষ করে কুইজ নিন, দেখাবেন বাচ্চাদের বাড়িতে গিয়ে পড়তে হবে না। আজকে যে কোচিং ব্যবসার মহামারি লেগেছে এটা ভুল সিস্টেমের বাই প্রোডাক্ট।
[বাংলাদেশ এর জাতীয় শিক্ষাক্রম এ প্রথম থেকে ২য় শ্রেণী পর্যন্ত চার টা বিষয় (গান/চারুকলা/খেলাধুলা সহ), বেসরকারি স্কুলের জন্য বরাদ্দ দৈনিক ৪ ঘণ্টা। বেসরকারি বা বড় বড় স্কুল গুলো তে ৮ তা বিষয় পড়ানো হয় এই চার ঘণ্টায়। যদি সিফট থাকে তাহলে ৩.৫ ঘণ্টায়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে সরকারী হিসাবে ৬ টা বিষয় ৭ ঘণ্টা প্রতিদিন। বেসরকারি স্কুল গুলোতে সেই ৪ থেকে ৪.৫ ঘণ্টায় ৮ টা বিষয় পড়ায়।---এই প্যারা ফিরোজ ভাইয়ের পোষ্টের মন্তব্য থেকে কালেক্টেড, আন ভেরিফায়েড]
তাই আগে সিস্টেম ঠিক করুন। এগুলাই রাষ্ট্র মেরামতের বড় বড় এলেমেন্টস।
স্কুল প্রশাসনের শিক্ষাদান ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ট্রান্সপারেন্ট হচ্ছে কিনা, বৈষম্যহীন এবং মান্সসম্পন্ন হচ্ছে কিনা তার জন্য "স্টান্ডার্ড অডিটিং" সিস্টেম থাকা দরকার ছিল, যেখানে একটি স্কুল দৈবচয়নে বছরে অন্তত একবার নিরীক্ষায় পড়বে এবং বহুবিধ ইনডেক্সে স্কুল ও শিক্ষকের র্যাংকিং হবে। এই অডীটিং ব্যবস্থা অনলাইন হবে যাতে যে কেউ যে কোন সময় স্কুল শিক্ষার মান, ব্যবস্থাপনা মান এবং শিক্ষক মূল্যায়নের স্কুল ভিত্তিক গড় স্কোর অনলাইনে দেখতে পাবে। শুধু ব্যক্তি শিক্ষকের শিক্ষাদান ও ডেভেলপমেন্ট স্কোর পাব্লিকলি এভেইলেবল হবে না যা স্কুল পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনের মানগত ভিজিবিলিটি আসবে আর ব্যক্তি অভিভাবকও শিক্ষার মানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কিংবা চাপ দিতে পারে।
কথা হচ্ছে বাংলদেশে শিক্ষা প্রশাসনে ভিন্ন ভিন্ন খাতে টাকা খরচ হলেও "কন্টিনিউয়াস" স্কুল শিক্ষা মান ও শিক্ষাদান পদ্ধতি যাচাই ও স্টান্ডার্ড তৈরি হয়নি। পরিচালনা কমিটির নামে অভিভাবক কমিটি এবং রাজনৈতিক নেতারা এইসব কাজ করছে এবং যে যেভাবে পারছে নিজ নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। ফল যা হবার তাই পাওয়া যাচ্ছে। অভিভাবক কমিটি স্কুলের সাধারণ কাজে সাহায্যকারী (খাবার, ক্লিনিং, ইভেন্ট আয়োজন) হিসেবে থাকার কথা শুধু কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা স্কুল পরিচালনাকারী এবং নিয়োগদাতা হিসেবে কাজ করছে। তারাই সব খরচ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে, করছে ভর্তি বাণিজ্য। লাভজনক হয়ে যাবার কারণে রাজনৈতিক নির্বাচনের মতই অভিভাবক নির্বাচন ব্যবসা হয়ে গেছে।
সর্বস্তরের শিক্ষায় শিক্ষক মূল্যায়ন (ট্রেনিং একাডেমী, বহিরাগত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী, তবে স্কোরিং ওয়েট নিয়ে আলোচনা হতে পারে) চালু করা। শিক্ষকদের কোম্ফোর্ট জোন থেকে বের করে এনে কন্টিনিউস ডেভেলপমেন্ট এবং সিকুয়েনশিয়াল স্টেইজে বিন্যস্ত ট্রেনিং ফেইজে নিয়ে আসা দরকার।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকের কোচিং নিষিদ্ধ করা এবং শিক্ষকের বেতন কষ্ট অফ লাইফ হিসেবে বাড়ানো না গেলে স্কুল শিক্ষাকে রিপ্লেইস করে ফেলা কোচিং কখনই বন্ধ হবে না।
ছাত্র ছাত্রীর প্রমোশন একক লিখন পরিক্ষা নির্ভর না করে সেখানে কথন, বলন, লিখন, শ্রবণ ঝোঁক উপস্থাপনা এবং বুদ্ধিমত্তা নির্ণয় কেন্দ্রিক স্কুল পরিক্ষা মডেল চালু করুন। মনোগত, আচরণগত উন্নয়ন আমলে নিন। একক লিখন কেন্দ্রিক পরিক্ষায় বহু মুখস্ত করার ঝোঁক থাকে বলে নকলের প্রবণতা প্রবল।
শিক্ষার্থী অন্যায় বা নকল করলে তাকে শোধরানোর বিকল্প চাই, টিসি ব্যবস্থা স্থায়ী কোন সমাধান নয়। ছাত্র ছাত্রীর সাথে অভিভাবক কাউন্সিলিংও দরকার, কেননা সমাজে অভিভাবক সচেতনতাও দরকার। ঘুষ দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক যেমন স্কুলের সমস্যা তেমনি ঘুষ দিয়ে বাচ্ছা ভর্তি করানো অভিভাবকরাও সমস্যা।
আজকে যদি রাজধানীর বড় বড় স্কুল কলেজের মেডাম দের দেখেন, দেখাবেন ইনাদের অধিকাংশই বড় বড় নেতা বা আমলার ওয়াইফ। এই যে নিয়োগ ও তদবির বাণিজ্য এর সমাধান নিয়ে আলাপ তুলুন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মূল পয়েন্ট যে, মেধাভিত্তিক প্রশাসন তৈরি তা বাস্তবায়ন করুন।
স্কুল কিভাবে অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করবে তার "মুড অফ কমিউনিকেশন" ঠিক করা চাই। অর্থাৎ একটা শিক্ষা সহায়ক এবং ইন্টারেক্টিভ স্কুল কমিউনিকেশন ব্যবস্থা দাঁড়া করানো দরকার যেখানে স্কুল বছরে অন্তত দুইবার শিক্ষার্থীর বহুবিধ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে অভিভাবকের সাথে একটা মানবিক, মর্যাদাপুর্ণ এবং শিক্ষা সয়াহক পরিবেশে কমিউনিকেইট করবেন। আবার এই যোগাযোগের কতটা অনলাইন হবে এবং কতটা অফলাইন হবে সেটাও ঠিক করতে হবে।
স্কুল শিক্ষাকে লিখতে পারা, অংক পারা আর মুখস্ত বলতে "পারা"র হিসেব থেকে বের করে আনতে হবে। একটা বাচ্চার মানসিক, সামাজিক, ইমোশনাল, বিহেভিয়ারাল, এথিক্যাল, ফিজিক্যাল, বুদ্ধিগত ও শিক্ষা গ্রোথ মিলিয়ে বহুবিধ ডেভেলপমেন্ট যাচাই হোক মূল থিম। এতে কোন বাচ্ছার কোন ধরণের ডেভেলপমেন্ট এইড দরকার তা বেরিয়ে আসবে এবং সেভাবে স্কুলিং ব্যবস্থা সাজানো যাবে। এর জন্য দরকার অতিরিক্ত শিক্ষক, স্কুলে ডাক্তার, মোনোবিদ রাখা, পরিবেশ সচেতন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রাখা একদিকে সময়ের দাবি, অন্যদিকে খরুচে।
আরেকটা কথা, না বললেই নয়। স্কুলে শুধু চেয়ার টেবিল আর ব্ল্যাক বোর্ডের ক্লাস রুম আর কত? নোংরা অপরিচ্ছন্ন দুর্ঘন্ধময় টয়লেট আর কত? এতে তো শিক্ষা আনন্দময় হচ্ছে না। স্কুল বাচ্চাদের কাছে আকর্ষনীয় হছে না। আজকের স্কুলে কেন বাচ্চারা যেতে চাচ্ছে না? ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে হাজার হাজার কোটি খরচ হয়ে গেছে অথচ স্কুল ক্লাসরুমে কম্পিউটার আসেনি এবং কম্পিউটার কেন্দ্রিক কিংবা ই-লার্নিং এর থিম ভিত্তিক, এজেন্ডা ভিত্তিক কোর্স প্ল্যান বা লার্নিং প্ল্যান এখনও আসেনি কেন?
সিলেবাস কমানো বহু জরুরি কাজের আরেকটা। স্কুল ও শিক্ষাকে ভয় পাওয়ার দুটা মহা কারণ হচ্ছে রুক্ষ শিক্ষক এবং বেশি সাবজেক্টের বোঝা। আলতু ফালতু সাবজেক্ট তুলে দিয়ে কারিকুলাম একদিকে স্লিম ও অন্যদিকে রিচ করা দরকার। এখানে মৌখিক আলোচনা, চর্চা এবং থিমেটিক পদ্ধতিতে সামাজিক, পরিবেশগত, আচরণগত বিষয় গুলো কভার করতে হবে। আর নৈতিকতা চর্চার বিষয়গুলোকে সমাজ ও পরিবারে পুশ না করা গেলে শুধু স্কুলে প্রেসার দিয়ে কোন কাজ হবে না। সেজন্য দরকার বয়স্ক শিক্ষাকে আনুষ্ঠানিক করা যেখানে অভিভাবকদেরও সচেতন করার চেষ্টা হবে।
স্কুলের কাজের স্কোপ বাড়াতে, শিক্ষক বাড়াতে কিংবা শিক্ষায় মান আনতে, স্কুল সমীক্ষা করতে, স্কুল ও শিক্ষক রেঙ্কিং আনতে, শিক্ষক ট্রেনিং বাড়াতে, ক্লাস রুম মানসম্পন্ন করতে শিক্ষায় সরকারের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আমরা বলছি শিক্ষা জিডীপির ৭% বরাদ্দ করা হোক শিক্ষায় (বর্তমানে ২% এর কম) যা ৫ বছরের মধ্যে ১০% হবে। অথবা বাজেটের ২০% শিক্ষায় বরাদ্দ দিন। শিক্ষা প্রশাসনে ঘুষ ও তদবির বাণিজ্য বন্ধ করেন, মেধাভিত্তিক শিক্ষা প্রশাসন সাজান, অন্তত শিক্ষায়। দেশে বহু সমস্যা আছে, শুধু শিক্ষা ঠিক করতে পারলে তার বেশ কিছু আপনা আপনি ঠিক হবে। এমপিদের স্কুল ভবন করার নামে ১৬ হাজার কোটি নির্বাচনী ঘুষ দেবার মত লোপাট বন্ধ করুন, প্রকৃত শিক্ষায় মনোযোগ দিন, সেনানিবাস না বাড়ীয়ে, ডিওএইসএস না বাড়িয়ে, জলসিড়ি প্রকল্প না করে, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় একধাপে একনেকে হাজার কোটি না বাড়ীয়ে শিক্ষায় ইনভেস্টমেন্ট করুন। দুর্নীতি ও লুট থামিয়ে বাজেটের বাস্তবায়ন সক্ষমতা আনুন।
শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে সেন্সিবল করলেই পরে এই ব্যবস্থাপনা থেকে ভালো কিছু আশা করা যায়! বর্তমান স্কুলিং একদিকে ভয়ের অন্যদিকে মানহীন। আর স্কুল ব্যবস্থাপনাও নৈরাজ্যে ভরা। ফলে সোশ্যাল সিস্টেমের কিছু কিছু এস্পেক্টে এটা ব্যাকফায়ার করছে!
কাঁঠাল গাছ লাগিয়ে আম খাওয়ার আশা বন্ধ হোক।
শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সেন্সিবল হোক!
Sumon Hossain
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Rajeshwar Roy
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
MD Shamim Khan
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?
Tariqul Islam Tomal
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?