দুনিয়ায় অন্তত এক হাজার প্রকারের কলা আছে। যদিও মানুষ খায় মাত্র কয়েক জাতের। এশিয়া থেকে যাত্রা করে আফ্রিকা হয়ে কলা কীভাবে দুনিয়ার মানুষের খাদ্যতালিকায় স্থায়ী আসন করে নিল, সে ইতিহাসটা আমাদের জানা আর অজানার মধ্যে একটা জট পাকিয়ে আছে।

কলার প্রথম চাষাবাদ কোথায় হয়েছিল, সেটা নিশ্চিত নয়। কারণ ফল উৎপাদন দুনিয়ার কোনো একটি বিশেষ জায়গাতে শুরু হয়েছিল তা নয়। একটা মত অনুসারে কলার প্রথম চাষ হয়েছিল এখনকার মালয়েশিয়ায়। ধারণা করা হয় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকাতে কলা বন্য অবস্থায় জন্মাত।

কলা চাষের প্রথম লিখিত বিবরণী পাওয়া যায় ভারতের ক্ষেত্রে। সেটা ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। আজকের দিনে যেভাবে কলার চাষ হয়, সে সময়ও ভারতে এভাবেই কলার চাষ হতো। সে সময় ভারতের কলা ছিল বীজহীন।

৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারত থেকে ফেরার সময় আলেকজান্ডার সঙ্গে করে কলা নিয়ে এসেছিলেন। এভাবেই কলা পশ্চিম গোলার্ধে হাজির হয়েছিল।

কলার ইতিহাসের এহেন বৈচিত্র্য ও গুরুত্ব এখানেই শেষ নয়। শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, কলা দুনিয়ার কিছু অংশের রাজনীতিকেও দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। উনিশ শতকের শেষভাগে কয়েকজন নিষ্ঠুর উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্রে কলার বাজার তৈরি করেন। আর সেই কলা উৎপাদনে ব্যবহার করতেন লাতিন আমেরিকার জমি। শিগগিরই কলা বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে, বিস্ময় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০ বছরের মধ্যে আপেলকে হটিয়ে কলা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেস্ট সেলার ফলের জায়গা করে নেয়।

কলা যেখানেই হাজির হয়েছে, সেখানেই মানুষের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এনেছে। অনেকে বলেন, বাইবেলে ইভ যে নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিলেন, সেটা আপেল নয়, বরং কলা।

‘ব্যানানা রিপাবলিক’ নামে রাজনৈতিক শব্দকোষে একটি শব্দযুগল আছে। বিশ শতকের রাজনীতিতে কলা ব্যবসায়ীদের আধিপত্যকে প্রকাশ করতেই এ শব্দযুগল তৈরি হয়েছিল।

কলা তাই যত কথা...

image

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন