শিয়া ও সুন্নি হাদিস একই নয়। উভয় সম্প্রদায়ের আলাদা আলাদা হাদিস সংগ্রহ আছে, এবং তারা ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনাকারী ও উৎসকে নির্ভরযোগ্য মনে করে। ফলে অনেক হাদিসে মিল থাকলেও, গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যাখ্যায় বড় পার্থক্য রয়েছে।
📚 প্রধান পার্থক্যসমূহ
1. হাদিস সংগ্রহ
• সুন্নি মুসলিমরা ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করেন:
• সহিহ আল-বুখারি
• সহিহ মুসলিম
• সুনান আবু দাউদ
• সুনান আল-তিরমিজি
• সুনান আল-নাসায়ী
• সুনান ইবনে মাজাহ
• শিয়া মুসলিমরা চারটি প্রধান গ্রন্থকে গুরুত্ব দেন:
• আল-কাফি (আল-কুলাইনি)
• মান লা ইয়াহদুরুহু আল-ফাকিহ (আল-সাদুক)
• তাহদিব আল-আহকাম (আল-তুসি)
• আল-ইস্তিবসার (আল-তুসি)
2. বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতা
• সুন্নি দৃষ্টিভঙ্গি: সাহাবাদের অধিকাংশকে নির্ভরযোগ্য মনে করা হয়।
• শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি: কেবল আহলুল বায়ত ও তাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের বর্ণনা বেশি গ্রহণযোগ্য। অনেক সাহাবার বর্ণনা তারা সন্দেহজনক মনে করেন।
3. ধর্মীয় কর্তৃত্ব
• সুন্নি: হাদিসের মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর সুন্নাহ সংরক্ষিত হয়েছে, এবং নেতৃত্ব সাহাবাদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়েছে।
• শিয়া: হাদিসে ইমামদের (আলীর বংশধর) বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত থাকে, কারণ তারা নবীর প্রকৃত উত্তরসূরি বলে বিশ্বাস করেন।
4. বিশুদ্ধতার ধারণা
• সুন্নি: সহিহ বুখারি ও মুসলিমকে প্রায় নির্ভুল মনে করা হয়।
• শিয়া: কোনো মানব-সংকলিত গ্রন্থকে সম্পূর্ণ সহিহ মনে করেন না; প্রতিটি হাদিসকে আলাদাভাবে যাচাই করা হয়।
কুরআনের পাঠ: শিয়া ও সুন্নি উভয়েই একই আরবি কুরআন পড়েন। আয়াতের সংখ্যা, শব্দ, বাক্য গঠন—সবই অভিন্ন। কুরআন একই—কোনো ভিন্ন সংস্করণ নেই। পার্থক্য কেবল তাফসির ও ব্যাখ্যার ধরণে, পাঠে নয়। সুতরাং শিয়া ও সুন্নি উভয়েই নি:সন্দেহে মুসলিম। ভিন্ন মাজহাবের মতো।