১। কিছু মানুষ দেখবেন খুব হৈ চৈ করে। জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা না করায় মুসলমানদের অধঃপতন, এই মুখস্থ বুলি আউড়ে তারা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। মাদ্রাসার মোল্লারা জ্ঞান বিজ্ঞান না শিখে কিতাবাদি নিয়ে বসে আছে বলে তাদের বেশ গাত্রদাহ। একটু খেয়াল করলে দেখবেন এইসকল লোকজন না জ্ঞান বিজ্ঞান শিখেছে, না মাদ্রাসায় বসে ইলম শিখেছে। দুকুল হারানো এমন লোকদের কথায় বেশি গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই।
২। ইংরেজি শেখা হারাম এই ফতোয়া দেয়ায় এ অঞ্চলের আলেমরা এখনো পিছিয়ে আছে, এই মুখস্থ বুলি আউড়ে স্মার্ট সাজেন অনেকে। এই ফতোয়ার রেফারেন্স কী জিজ্ঞেস করলে অনেকের মুখে তালা লেগে যাবে। কোন প্রেক্ষাপটে এই ফতোয়া, কতদিন আলেমদের এই অবস্থান ছিল, বর্তমান অবস্থান কী, ইংরেজি শেখা সবার জন্য শতভাগ জরুরি কিনা, জেনারেল ঘরানায় শতকরা কতজন খুব ভালো ইংরেজি জানেন, এখন শতকরা কতজন ভালো আলেম ইংরেজি জানেন, ইংরেজি না জানার কারণে আলেমদের ইলমি কাজে বড় কোনো শূন্যতা এসেছে কিনা, ইউরোপ আমেরিকায় দ্বীন প্রচারের জন্য ইংরেজি জানা দরকার, সেখানে আলেমরা পিছিয়ে আছেন কিনা, এই পয়েন্টগুলো ধরে আলোচনা করেন, দেখবেন হজরতজি আর সামনে এগুতে পারছে না। কারণ সহজ, তোতা পাখি শুধু মুখস্থ কথাই বলে বেড়ায়, আগে পরে কিছু বলতে পারে না।
৩। অনেককে দেখবেন সাদপন্থী দের মতো ফতোয়ার উপর খুব বিরক্ত। কথায় কথায় ফতোয়ার উপর রাগ তার। এমন হলে বুঝবেন ভদ্রলোক এমন কিছু করেছেন বা করতে চাচ্ছেন যেখানে ফতোয়ার কারণে আগাতে পারছেন না। এবার সেটা নজরুলের মত হিন্দু মেয়ে বিয়ে হোক কিংবা অন্য কোনো ইস্যু। ফতোয়ার কারণে বিভেদ আর বিশৃঙ্খলা বলে যারা উদার সাজেন তারাও কিন্তু সময় পেলে অন্যের উপর হালুয়াখোর-রুটিখোর ধরনের ট্যাগ মারতে ভুলেন না। ফতোয়া সবাইই দেয়, কেউ দেয় ফিকহ অনুসারে, কেউ দেয় নিজের নফসের খাহেশাত মেটাতে।
৪। নতুন কিছু শুনলেই সংস্কারধর্মী কাজ ভেবে লাফানোর কিছু নেই। প্রতিটা বিদআত নতুন কাজ ও সংস্কারের সুরত ধরেই আসে। চিন্তার বিপর্যয়গুলোও খুব লোভনীয়, চকচকে মোড়কেই আমদানি হয়।
৫। ইংরেজি শেখার বিষয়টি নির্ভর করবে প্রত্যেকের অবস্থান অনুযায়ী। যেমন, ইউরোপ আমেরিকায় দাওয়াতের কাজ করেন এমন আলেমরা সবাই ভালো ইংরেজি পারেন৷ আধুনিক বিষয় নিয়ে কাজ করেন এমন মুফতিরাও ভালো ইংরেজি পারেন। ইসলামি বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন তাদের বড় অংশও ইংরেজি পারেন। কিন্তু তারা কথায় কথায় ইংরেজি শব্দ বলে স্মার্ট সাজার ভান করে খিচুড়ি ভাষার জন্ম দেন না। হ্যা, যারা গ্রামে গঞ্জে মসজিদ মাদ্রাসা নিয়ে আছেন তারা ইংরেজি জানেন না। জানার দরকারও নেই তাদের। কিন্তু অনেকে ওয়াজ মাহফিলে ঘুরে ঘুরে ইংরেজি না জানা হুজুরকে মূর্খ প্রমান করতে ব্যস্ত৷ তাদের এসব বক্তব্যের কারণে গ্রামবাসির কাছে সেসব হুজুররা হয়ে উঠেন গেঁয়ো, মূর্খ। আড়ালে চলে যায় তাদের অবিশ্বাস্য খেদমত ও অবদানের কথা। এই বিশ্রী প্রবনতার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাই।