বাংলাদেশের বাজেট ৫,৬৮,০০০ কোটি টাকা। শুনলে বেশ ভাল লাগে। এক সময় নিজস্ব অর্থায়নে ৩০০ কোটির প্রকল্প হাতে নিতেও ভয় পেতে হত। খোজা হত দাতাদের অনুদান অথবা ঋন। কিন্তু সাম্রতিক সময়ে কিছু বিষয়ে না বললেই নয়। ব্যাস্ততার কারনে এখন দেশের টুকিটাকি অনেক খবর নজরে পড়েনা। কিন্তু কিছুদিন আগে একটি সংবাদ বেশ নাড়া দিয়েছে।
খবরটা ছিল এরকম যে, ঢাকাতে মহামারীর জন্য তালিকাভুক্ত সরকারী হাসপাতালে আইসিইউ ফাঁকা আছে মাত্র পাঁচটি। মোট আছে ২৫০ টির মত। সারা দেশে সরকারি এবং বেসরকারি মিলিয়ে মাত্র ৫৭৪ টি। ২০২০ এ মহামারী শুরু হবার আগে পূর্নাঙ্গ আইসিইউ ছিল মাত্র ১১২ টি। ১৭ কোটির দেশে সরকারী বেসরকারি মিলিয়ে মাত্র ৫৭৪ টি আইসিইউ!!! চমৎকার!!
নিউজগুলা দেখে প্রথম যেই বিষয়টা মাথায় এসেছে সেটা হল, এই পাঁচটি হয়ত ফাঁকা রাখা হবে। বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের ফোন পেলে তাদের রেফারেন্সে আইসিইউ ম্যানেজ হয়ে যায়। যদি এমন হয় যে একটাও বেড ফাঁকা নেই তাহলে হয়ত উচ্চ মহলের ফোনকলে সাধারন রুগিদের আইসিইউ সাপোর্ট খুলে নিয়ে ভিয়াইপি কাউকে স্থান দেয়ার অর্থ হল রুগিকে হত্যা করা। তখন ধরেই নিয়েছি যে এরকম ৫-৭ টা হয়ত ফাঁকাই রাখা হয়।
যাহোক, স্বাস্থ্য খাত নিতে এর আগেও লিখেছি। ডেফ্রেসে লিখবার কিছু হয়ত প্রভাব মিডিয়ায় পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে কোন প্রভাব পড়ে না। এটাই সত্য। আমাদের লেখায় কারো কিছুই আসবে যাবেনা। এই প্লাটফর্ম আজ আছে হয়ত একদিন থাকবে না। কিন্তু আমাদের চিন্তার কি পরিবর্তন হবে?
হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাশ হচ্ছে। হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। লাইট, ফ্যানের দাম লক্ষ টাকা হয়ে যাচ্ছে। পর্দার দাম সোনার ফাইবার দেয়া পর্দার থেকেও বেশি হচ্ছে। যে জিনিসটি হচ্ছে না সেটি হল, অসহায় মানুষের উপকার। কারো পরিবারে অসুস্থ রুগি থাকলে সে বুঝে এর মর্ম কতটুকু। কিন্তু রুগিদের ভেতরেও আমরা বাঁচবার চেষ্টা করার অধিকারের ক্ষেত্রে শ্রেণীভেদ করে রেখেছি। সাধারন রুগি, যার কোন হাই লিংক নেই। আর অসাধারণ রুগি, যাদের সেবা পেতে একটুও দেরি নেই।
একটা আইসিইউ বেডের দাম কত? অনেক বেশি? প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা বাজেটের দেশে ২৫০ আইসিইউ? তাও ১৭ কোটি মানুষের বিপরীতে?
এটা ঐচ্ছিক। আর কোন ব্যাখ্যা নেই এই অবিচারের। আমার মা কে নিয়ে একবার চক্ষু হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমার ধারনা ছিল, জেলা শহরের বিরাট চক্ষু হাসপাতালে কতজন বা রুগি থাকতে পারে। কিন্তু অবাক হয়েছি হাজার হাজার বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষকে দেখে। তারা সেবা নিতে এসেছে। খরচ কম। কিন্তু এই সামান্য বিশেষায়িত সরকারী চক্ষু হাসপাতাল নেই দেশের অধিকাংশ জেলা শহরে। হার্ট, কিডনি, ডায়াবেটিক হাসপাতালের কথা বাদ ই দিলাম। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের অধিকার। ২৫ লাখ জনসংখ্যার একটা জেলায় ২৫০ টি আইসিইউ থাকাটাও বেশ কম। সেখানে সারা দেশে ২৫০ টি সরকারি আইসিউ? তাও অনেক গুলাতে নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই।
কেন? এই কেন শব্দটার উত্তর দিবে কে? কিডনি ডায়ালাইসিসের রুগির কষ্ট অনেকেই নিজ চোখে দেখেছেন। অমানুষ না হলে কান্না চলে আসতে বাধ্য।
তাহলে এত বিশাল বাজেটের সুফল টা কোথায়? আমি নিজেই দেখেছি অনেক মধ্যবিত্ত, তাদের সহায় সম্বল হারিয়ে হত দরিদ্র হয়ে গেছে শুধু চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে যেয়ে। অনেক পরিবার আছে যেখানে বাবা মা অর্থের ভয়ে ডাক্তার না দেখিয়ে নিরবে মারা যাওয়াকে মেনে নিয়েছেন।
ভেবেছেন কখনো? প্রতিটি জেলায় ক্রিটিকাল রুগিকে কেন ঢাকায় পাঠাতে হবে? ডায়াগনোসিস এর জন্য কেন বিভাগীয় শহরে যেতে হবে? তাদের অপরাধ কি? মফস্বলে তাদের বাড়ি এজন্য? ভেবেছেন কখনো?
ভাবার সময় নেই আমাদের। আসলে আমার নিজের ও নেই। অনেক ক্ষোভ মনের ভেতরেই থেকে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলে যে লাভ তা নয়। বিশেষজ্ঞ অনেকেই হা হা রিয়েক্ট দিবেন। অনেকে এসে বিকাশে ফ্রি ১০০০০০ টাকা পাওয়া যায় এই লিঙ্কে প্রবেশ করুন টাইপ কমেন্ট করবেন। অনেকে থাকবেন মজা করা নিয়ে। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট কম এটা আমার মনে হয়না। সিন্ডিকেট যে নতুন যন্ত্রপাতি প্যাকেট না খুলেই নষ্ট করে আবার টেন্ডারের মাধ্যমে টাকা হাতায় এটাও হয়ত কারো কাছে অপরিচিত নয়। সমস্যা হল, যাদের হাতে ক্ষমতা তারা এগুলার সবকিছু হাস্যোজ্জ্বল মুখে অস্বীকার করবেন। বাজেটের টাকার উপকার সরাসরি দেশের মানুষের পাওয়ার উপায় হল স্বাস্থ্য সেবা। আমরা গরীব নই। কেউ যদি বলে আমাদের টাকার সমস্যা। সেটাও বিশ্বাস করার মত নয়। সমস্যা হল আমরা অতিমুনাফা, টাকার লোভে দেশের অসহায় মানুষদের আরো অসহায় করে দেয়ার এই নীতি চালু রেখেছি। জেনে বুঝে অস্বীকার করছি। বিবেক বেচে দিয়ে এগুলা দেখলেও এড়িয়ে যাবার পলিসি নিয়ে চলছি।
আজ একটি খবর দেখে এতটাই মেজাজ খারাপ হয়েছে যে নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। খবরটি হল BGMEA বাংলাদেশের পোশাকের বাজারের ব্রান্ড প্রতিষ্ঠা করতে আমাজন এর মত প্লাটফর্ম দাড় করাতে চায়। খুব ভাল উদ্যোগ। শুনেই খুশী লেগেছিল এই ভেবে যে এই ডেফ্রেসের মাধ্যমেই অসংখ্য লেখাতে আমি এটা বার বার বলেছি যে আমাদের নিজস্ব ব্রান্ড প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তখন আমরা ওয়ালমার্ট, এইচ এন্ড এম, ইউনিকলোর মত প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়াদেশ বাতিল হবার ভয়ে থাকব না।
কিন্তু পরোক্ষনেই এই খুশী তীব্র ক্রোধে রুপ নিয়েছে যখন আরেকটি খবর দেখলাম যে BGMEA আমাজনের মত প্লাটফর্ম করতে সরকারের কাছে ১০০ কোটি টাকার আবদার করেছে। বাহ। সরকারি টাকা মানে এখানে যার জোর বেশি তার আবদার বেশি? সরকারি টাকা তো ভাই কোন দলের টাকা নয়। এদেশের মানুষের টাকা। এখানেও হাত দিতে হবে? BGMEA এত গরীব? এত নিচু মানসিকতার কিভাবে হল তারা? এই সিস্টেমের পরিবর্তন চাই। ঘুনে ধরেছে সব। পঁচে গেছে সব। বহু নীতিকথা বলা মানুষ দেখেছি, ক্ষমতা পেলে সব পরিবর্তন হয়ে গেছে, টাকার ঘ্রাণের কাছে সব সপে দিয়েছে। কে করবে এই পরিবর্তন? কে ভাববে? কে গুরুত্ব বুঝবে?
collected from - Wasi Uddin Mahin

সহজ এফিলিয়েট

ঘরে বসে সহজ আয়

ফেসবুক চালাতে পারলেই আয় করতে পারবেন

এখনি শুরু করুন