মাঝরাতে নুপুরের ছমছম শব্দে ঘুম ভেঙে যায় শান্তনার।ধিরে ধিরে শব্দটা জেনো বেরেই চলেছে মনে হলো শান্তনার কাছে।
শান্তনাঃকি ব্যাপার!এতো রাতে নুপুরের শব্দ কেন ভেসে আসছে আমার কানে?এ বাড়িতে তো আমি আর আমার হাসবেন্ড মেঘ ব্যতিত কেউ থাকেনা।আমি ছাড়া অন্য কোনো মেয়েও তো নেই বাড়িতে যে নুপুর পড়বে।তাছাড়া আমাদের কাজের মেয়েটা তো দুপুরের পর পরই বাড়ি চলে যায়।তাহলে কে নুপুর পায়ে হাঁটছে?গিয়ে দেখবো কি?না থাক।ওটা হয়তো মনের ভুল হবে বলে চোখ লাগিয়ে নেয়।কিন্তু পরক্ষণে আবার খুলে ফেলে।
---উফফ আর নিতে পারছি না শব্দটা।মনে হচ্ছে সত্যি কেউ নুপুর পড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে।আমি বরং মেঘকে ডেকে তুলি।হ্যাঁ সেই ভালো হবে।তবে শান্তনা মেঘকে ডাকতে গিয়েও ডাকতে পারল না।
না মেঘকে ডাক দিলে ওর ঘুমটা নষ্ট হয়ে যাবে।কতো রাত করে আসলো আজ।থাক আমি একাই যাই বলে দরজা খুলে শব্দের পিছু ছুটে শান্তনা।যতই এগোচ্ছে শব্দ যেন ততই তীব্র আকার ধারণ করছে।এক পর্যায়ে শান্তনা থেমে যায়,,,
---একি....!আমি তো হাঁটতে হাঁটতে ট্যারিসের উপর চলে এসেছি।তবে এখানে তো কোনো মেয়েকে দেখছি না আমি।তাহলে কোথা থেকে আসছে এই শব্দ?মাথাটা খুব ধরেছে আমার।শান্তনা ওইখানেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে।
---আপু,,,,,,!
আপু কথাটা শুনে মাথা তুলে তাকায় শান্তনা।সামনে কাউকে দেখতে না পেলেও আপু শব্দটা খুব চেনা লাগে শান্তনার কাছে।শান্তনার মুখ থেকে আপনা আপনি বেরিয়ে আসে একটা নাম,,
শান্তনাঃছুটকি....!হ্যাঁ আমাকে ছুটকি ইতো আপু বলে ডাকলো মাত্র।কিন্তু কিভাবে পসিবল এটা?এটা তো অসম্ভব।কারণ ছুটকি তো আর আমাদের মাঝে নেই।কবেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে অন্য দুনিয়ায়।(কান্না মাখা স্বরে বলল)
---আপু,,,,তুই তোর ছুটকিকে এতো সহজে ভুলে গেলি?
এবার যেন শান্তনা অবাকের শেষ সীমান্তে পৌঁছে গেল কথাটা শুনে।
শান্তনাঃকে?কে তুমি?আমার ছুটকির আওয়াজে কেন কথা বলছো?মজা করা হচ্ছে আমার সাথে?দেখো ভালোই ভালোই বলছি আমার সামনে এসো।আর এভাবে ছুটকির আওয়াজে কথা বলা বন্ধ করো।আমি নিতে পারছি না।প্লিজ বন্ধ করো।
---আপু তুই তোর ছুটকিকে চিনতে পারছিস না?দেখ আমি নাফিজা।তোর ছুটকি।
শান্তনাঃছুটকি, নাফিজা এসব কি শুরু করেছো হুম?আমার ছুটকি মারা গেছে আরও 1 মাস আগে।শুনেছো?আমার নাফিজা নেই আর বলে উচ্চস্বরে কেঁদে দেয় শান্তনা।
নাফিজাঃতুই একবার পেছনে ফিরে দেখ তাহলেই বিশ্বাস করবি।
শান্তনা ধিরে ধিরে পিছনে ফিরে তাকাতেই চরম অবাক হয়।কারণ নাফিজা সত্যি সত্যিই শান্তনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।শান্তনা যেন ওর চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।বিশ্বাস না করতে না পারলেও শান্তনাকে বিশ্বাস করতে হবে কারণ শান্তনার সামনে নাফিজাই দাঁড়িয়ে।কিন্তু শান্তনা যে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।ওতো এটা ভেবে পাচ্ছে না নাফিজা ফিরে আসায় ও ভয় পাবে নাকি খুশি হবে।
---কিরে আপু,,কিছু বলছিস না কেন?চিনতে কি খুব কষ্ট হচ্ছে নিজের ছুটকিকে?
শান্তনাঃ............ কিছু বলছে না শুধু তাকিয়ে আছে।
নাফিজাঃকিছু তো বল?
নাফিজার ডাকে শান্তনার ধ্যান ভাঙে।আর সাথে সাথে বলে ওঠে,,,,
শান্তনাঃতুই তো মারা গেছিস তাহলে কিভাবে ফিরে এলি?
নাফিজাঃআমি ফিরে আসিনি রে আপু।এটা আমার আত্মা।অতৃপ্ত আত্মা। বলার সাথে সাথে নাফিজার চেহারা বিভৎস কুৎসিত আকার ধারণ করলো।নাক মুখ দিয়ে গড়গড় করে রক্ত পড়তে শুরু করলো।ধিরে ধিরে নাফিজার মুখ থেতলে গিয়ে অস্পষ্ট হয়ে গেল।কোনো কিছু পঁচে গেলে যেমন দেখায় ঠিক তেমন আকারে পরিনত হয়ে গেল নাফিজার শরীরের গড়ন।এসব কিছু দেখে ভয়ে শান্তনা এক চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
#চলবে,,,,,
#সুচনা পর্ব
(আপনাদের সকলের সাড়া পেলে নেক্সট পার্ট লিখবো)
M/S RONY
Delete Comment
Are you sure that you want to delete this comment ?