মাওলানা মামুনুল হক শেখ হাসিনাকে বলছেন,"আপনি কেবল একবার বলে দেন নরেন্দ্র মোদি এইদেশে আসতে পারবেন না, তারপর আপনি যেইভাবেই নির্বাচিত হয়েছেন আর আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না।"
মামুনুল হক, আপনি একজন বিশাল আলেম কিন্তু আপনি এই কথা বলে রাজনীতির খুব মৌলিক একটা ভুল করেছেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই এটা আপনার স্লিপ অব টাং। মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কোন নেগোশিয়েশনের বিষয় না। মোদির আসা বন্ধ করে দেয়াকে আপনি আপনার রাজনৈতিক অধিকারের সাথে ট্রেড করতে চাচ্ছেন। এটা আপনি করতে পারেন না।
মোদির বাংলাদেশে আসা বন্ধ কেন করতে হবে, এটার ব্যখ্যা কী আপনার কাছে? মোদি হিন্দু তাই? মোদি মুসলমানদেরকে মেরেছে তাই? মোদি যে মুসলমান মেরেছে এটা ধর্মতাত্ত্বিক কারণে নাকি পলিটিক্যাল কারণে? তাহলে আপনি সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে নিজের রাজনৈতিক অধিকার বিসর্জন দেয়ার আগাম প্রতিশ্রুতি দেন কীভাবে?
আপনারা একবার কওমি সনদ পেয়ে বিগলিত হন, একবার রেলের জমি পেয়ে বিগলিত হন, একবার আল্লামা শফিকে কদমবুসি করা দেখে বিগলিত হন এখন মোদির আসা বন্ধ করার ঘোষণা আসবে সেই প্রত্যাশায় নিজের রাজনৈতিক অধিকার বিসর্জন দেয়ার আগাম প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিগলিত হন। ভাইজান এর কোনটাই রাজনৈতিক নয়। এর কোনটাই রাজনীতি নয়। এই জন্যই হাসিনা ক্ষমতায় আছে, আপনাদের রক্তে হাত মাখিয়েও আছে। এভাবে বিগলিত হতে থাকলে আরো অনেকদিন থাকবে।
আপনার বই "কারাগার থেকে বলছি" সেইখানে আপনি বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির সংকট নিয়ে আপনার পিতা আল্লামা আজিজুল হকের কাছে একটা খোলা চিঠি দিয়েছেন। সেইখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা আপনার বিশ্লেষণে আসেনি তা হচ্ছে, বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা রাজনৈতিক প্রশ্নকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে ব্যখ্যা না করে ধর্মীয় প্রজ্ঞা দিয়ে ব্যখ্যা করতে গেছেন। তাই সমাজে বিপুল প্রভাব থাকা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশে ইসলামপন্থীরা রাজনৈতিক ভাবে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছেন।
পলিটিক্যাল হতে না পারলে আপনার পলিটিক্যাল প্রভাব থাকবে না। আপনার পলিটিক্যাল প্রভাব না থাকলে আপনার ধর্মীয় প্রভাব ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হবে।
আপনি বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের তরুণ নেতা। আপনিও কি পলিটিক্যাল প্রশ্নকে থিওলজি দিয়ে মোকাবেলা করবেন? তারপর আর্ধ শতাব্দী পরে আপনার সন্তান আপনাকে উদ্দেশ্য করে একইভাবে চিঠি লিখবে যেটা আপনি আপনার পিতাকে লিখেছেন?